মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: আকাশ একজন প্রতিষ্ঠিত' ক্রিকেট খেলোয়াড় হতে চায়। এজন্য প্রতিদিন খবরের কাগজ ক্রিকেট-সংক্রান্ত খবরগুলো সবার আগে পড়ে ।দৃশ্যকল্প-২:
- ক)(1)
অধ্যাস কী?
- খ)(2)
আবেগ প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে কেন?
- গ)(3)
আকাশের ক্ষেত্রে মনোযোগের কোন শর্তের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত উপাদানটি ছাড়া প্রত্যক্ষণ সংগঠনের অন্যান্য উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উদ্দীপক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা বা ত্রুটিপূর্ণ প্রত্যক্ষণ করাকে অধ্যাস (Illusion) বা ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবেগ প্রত্যক্ষণকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে, কারণ ব্যক্তির তীব্র মানসিক অবস্থা বা আবেগীয় অনুভূতি উদ্দীপকের ব্যাখ্যায় পরিবর্তন আনে। ভয়, ভালোবাসা বা ক্রোধের মতো তীব্র আবেগ উদ্দীপকের সঠিক মূল্যায়নে পক্ষপাত তৈরি করে। যেমন—ভীত অবস্থায় অন্ধকারে দড়ির টুকরো দেখলে সাপ মনে হতে পারে। অর্থাৎ, আবেগীয় অবস্থা উদ্দীপক সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে বাধা সৃষ্টি করে আমাদের প্রত্যাশা ও চিন্তাকে প্রভাবিত করে বলেই তা প্রত্যক্ষণে প্রভাব ফেলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আকাশের ক্ষেত্রে মনোযোগের অভ্যন্তরীণ বা ব্যক্তিনিষ্ঠ শর্ত হিসেবে 'আগ্রহ' বা 'প্রেষণা'-এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
মনোযোগের অভ্যন্তরীণ শর্তাবলি ব্যক্তির নিজস্ব শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে আগ্রহ, কৌতূহল, প্রেষণা, মানসিক প্রস্তুতি ইত্যাদি অন্যতম। যে বিষয়ের প্রতি ব্যক্তির আগ্রহ থাকে, ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সে বিষয়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, আকাশ একজন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার হতে চায়। তার লক্ষ্য ও তীব্র আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলো ক্রিকেট। এ কারণে খবরের কাগজ হাতে পেলেই সে অন্যান্য খবরের চেয়ে ক্রিকেট-সংক্রান্ত খবরগুলো সবার আগে পড়ে। এখানে ক্রিকেটসংক্রান্ত খবরের প্রতি তার এই স্বতঃস্ফূর্ত মনোযোগের মূল কারণ হলো তার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালোবাসা। অতএব, আকাশের এ আচরণে মনোযোগের অভ্যন্তরীণ শর্তের (আগ্রহ/প্রেষণা) স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ গেস্টাল্ট প্রত্যক্ষণ সংগঠনের 'সাদৃশ্যের নীতি' (Law of Similarity) প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে একই রকম দেখতে ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজগুলোকে পৃথক সারি হিসেবে দলবদ্ধভাবে প্রত্যক্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষণ সংগঠনের সাদৃশ্যের নীতি ছাড়া অন্যান্য প্রধান উপাদানগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নৈকট্য (Proximity): উদ্দীপকগুলো যদি পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থান করে, তবে সেগুলোকে আমরা আলাদা আলাদা না দেখে একটি একক বা দল হিসেবে প্রত্যক্ষণ করি।
২. অবিচ্ছন্নতা বা ধারাবাহিকতা (Good Continuation): যেসব উদ্দীপক একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিক রেখা বা মসৃণ গতিতে সাজানো থাকে, সেগুলোকে খণ্ড খণ্ড হিসেবে না দেখে একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা বা প্যাটার্ন হিসেবে প্রত্যক্ষণ করা হয়।
৩. সামগ্রিকতা বা পূরণ (Closure): উদ্দীপকের মধ্যে ফাঁক বা অসম্পূর্ণতা থাকলেও আমাদের প্রত্যক্ষণ প্রক্রিয়া নিজ থেকেই সে ফাঁকা স্থান পূরণ করে একটি অর্থপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়।
৪. সাধারণ গতি (Common Fate): একই দিকে এবং একই গতিতে চলমান উদ্দীপকসমূহকে পৃথক না ভেবে একই দল বা একক হিসেবে প্রত্যক্ষণ করা হয়; যেমন—ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাওয়া পাখি।
৫. প্রতিসাম্য (Symmetry): উদ্দীপকগুলো যদি প্রতিসম আকারে বিন্যস্ত থাকে, তবে আমাদের মস্তিষ্ক সেগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত একক হিসেবে সহজে প্রত্যক্ষ করে।
পরিশেষে, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সাদৃশ্য উপাদানটি ছাড়াও নৈকট্য, অবিচ্ছিন্নতা, সামগ্রিকতা প্রভৃতি নিয়মের সমন্বয়ে আমাদের প্রত্যক্ষণ একটি সুসংগঠিত অর্থ লাভ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও