সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
স্থার।
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে চিত্র 'খ'-এর জীবিকা অর্জনের মাধ্যমকে কী বলে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'ক' ও 'খ'-এর মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাকারী এমন কিছু বিশ্বাস, আদর্শ ও মানদণ্ড যা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও কাঙ্ক্ষিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্মের একটি অন্যতম মৌলিক নীতিমালা হলো সাহায্যার্থীর আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার। আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বলতে সাহায্যার্থীর নিজস্ব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী কর্মপন্থা বেছে নেওয়ার অধিকারকে বোঝায়। এ নীতি অনুযায়ী সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর ওপর জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না, বরং সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলেন যাতে সে নিজেই নিজের ভালো-মন্দ বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিত্র 'খ'-এর জীবিকা অর্জনের মাধ্যমটিকে সমাজকর্মের ভাষায় 'পেশা' (Profession) বলা হয়।
পেশা হলো বিশেষ জ্ঞান, নৈপুণ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণনির্ভর একটি বিশেষায়িত জীবিকা অর্জনের উপায়। পেশাজীবী ব্যক্তি উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে সমাজসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
উদ্দীপকের চিত্র 'খ'-তে দেখা যাচ্ছে একজন শিক্ষক আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করছেন। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা। এ কাজের জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ দক্ষতা। তাছাড়া পেশার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক মর্যাদা বিদ্যমান থাকে। সুতরাং, বিশেষ জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের এই মাধ্যমটি হলো 'পেশা' বা Profession।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিত্র 'ক' নির্দেশ করে 'বৃত্তি' (Occupation)-কে (রিকশাচালক) এবং চিত্র 'খ' নির্দেশ করে 'পেশা' (Profession)-কে (শিক্ষকতা)। এদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: সাধারণ অর্থে মানুষ জীবিকা অর্জনের জন্য যেসব দৈহিক বা কায়িক কাজ করে থাকে তাকে বৃত্তি বলে। অন্যদিকে, উচ্চতর জ্ঞান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও বিশেষ নৈপুণ্যের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের উপায়কে পেশা বলে।
২. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: চিত্র 'ক'-এর বৃত্তির (রিকশা চালানো) জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু চিত্র 'খ'-এর পেশার (শিক্ষকতা) জন্য উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সুনির্দিষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষণের আবশ্যকতা রয়েছে।
৩. বুদ্ধিবৃত্তিক বনাম কায়িক শ্রম: চিত্র 'ক'-এর কাজটি মূলত কায়িক শ্রমভিত্তিক। পক্ষান্তরে, চিত্র 'খ'-এর কাজটি উচ্চ বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক শ্রমভিত্তিক।
৪. পেশাগত মানদণ্ড ও নৈতিক আচরণবিধি: পেশার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নৈতিক আচরণবিধি (Code of Ethics) এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা থাকে। কিন্তু বৃত্তির ক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নৈতিক আচরণবিধি বা পেশাগত সংগঠন থাকে না।
৫. সামাজিক মর্যাদা: আধুনিক সমাজে বৃত্তির তুলনায় পেশার সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতি অনেক বেশি।পরিশেষে বলা যায়, সকল পেশাই বৃত্তি, কিন্তু সকল বৃত্তি পেশা নয়। তাই চিত্র 'ক' (বৃত্তি) এবং চিত্র 'খ' (পেশা) উভয়ই জীবিকা অর্জনের উপায় হলেও জ্ঞান, দক্ষতা ও মর্যাদার দিক থেকে উভয়ের মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও