সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

ক' নামক দেশে ১৩৪৯ হতে ১৫৯৭ সাল পর্যন্ত দরিদ্রদের ভাগ্যোন্নয়নে বেশ কিছু আইন পাস হয়। আইনগুলো দারিদ্রা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ওই দেশে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নানান জটিল সমস্যার উদ্ভব হয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পূর্বের আইনগুলো সংস্কারের প্রযোজনীয়তা দেখা দেয়। এজন্য পার্লামেন্ট নির্দেশিত গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নতুন সংস্কার আইন পাস হয়। এ আইনটি সমাজকর্ম বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  1. ক)

    ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়?

    (1)
  2. খ)

    পক্ষদৈত্য ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' দেশের সংস্কার আইনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কোন সংস্কার আইনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তার পরিচয় বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত যুক্তরাজ্যে প্রণীত আইনটি 'সমাজকর্ম পেশার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনে দরিদ্রদের ৩টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয় (সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র এবং নির্ভরশীল বালক-বালিকা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পক্ষদৈত্য (বা 'পঞ্চদৈত্য' / Five Giants) হলো উইলিয়াম বেভারিজ কর্তৃক চিহ্নিত সমাজের প্রধান পাঁচটি মৌলিক সামাজিক সমস্যা।

    ১৯৪২ সালে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক 'বেভারিজ রিপোর্ট'-এ সমাজকল্যাণের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে পাঁচটি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়, যা 'পঞ্চদৈত্য' নামে পরিচিত। এগুলো হলো: অভাব (Want), রোগ-ব্যাধি (Disease), অজ্ঞতা (Ignorance), মলিনতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (Squalor) এবং অলসতা বা বেকারত্ব (Idleness)। এই পাঁচটি সামাজিক ব্যাধি দূর করার মাধ্যমেই আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। (প্রশ্নপত্রে মুদ্রণপ্রমাদবশত 'পঞ্চদৈত্য'-এর স্থলে 'পক্ষদৈত্য' লেখা হয়েছে)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দেশের সংস্কার আইনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কারের (Poor Law Amendment Act of 1834) ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    যুক্তরাজ্যে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে সংঘটিত শিল্প বিপ্লবের ফলে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। বেকারত্ব, শ্রম অসন্তোষ এবং দরিদ্রদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দরিদ্র করের বোঝা অসহনীয় হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৩২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি রাজকীয় কমিশন গঠন করে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৮৩৪ সালে পূর্ববর্তী দরিদ্র আইনগুলো সংশোধন করে '১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কার' পাস করা হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' নামক দেশে ১৩৪৯ থেকে ১৫৯৭ সাল পর্যন্ত আইন পাস হওয়া, পরবর্তীতে শিল্প বিপ্লবের কারণে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলায় পার্লামেন্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির সুপারিশে সংস্কার আইন পাস হওয়ার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা হুবহু যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক '১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কার'-কে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তরাজ্যে প্রণীত ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কারটি আধুনিক ও পেশাদার সমাজকর্মের বিকাশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কার মূলত ত্রুটিপূর্ণ সাহায্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটিয়েছিল। সমাজকর্ম পেশার বিকাশে এই আইনের ভূমিকা নিম্নরূপ:

    ১. বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক কাঠামো: এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ও লোকাল বোর্ড অব গার্ডিয়ানস গঠন করে সাহায্য কার্যক্রমকে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হয়, যা আধুনিক সমাজকর্ম প্রশাসনের পথ উন্মোচন করে।
    ২. সাহায্য পাওয়ার যোগ্যতা ও শ্রেণিকরণ: এ আইনে সক্ষম দরিদ্রদের বহিরাঙ্গন সাহায্য (Outdoor Relief) সম্পূর্ণ বন্ধ করে দরিদ্রাগারে (Workhouse) বাধ্যতামূলক কাজের নিয়ম চালু করা হয় এবং সাহায্যের পরিমাণ সর্বনিম্ন মজুরির চেয়ে কম রাখার নীতি (Principle of Less Eligibility) প্রণয়ন করা হয়। ফলে সাহায্যের অপব্যবহার রোধ হয় এবং সাহায্যপ্রার্থীদের প্রকৃত যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
    ৩. দান সংগঠন সমিতির অনুপ্রেরণা: এ আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো থেকেই পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দানকে সুসংগঠিত করার তাগিদ অনুভূত হয়, যা ১৮৬৯ সালে 'দান সংগঠন সমিতি' (COS)-এর জন্ম দেয়। এই দান সংগঠন সমিতিই পরবর্তীকালে আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের সূচনা করে।
    ৪. ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যার অনুধাবন: এ আইন দেখিয়েছে যে কেবল কঠোর নিয়ম বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়; বরং ব্যক্তির মনোসামাজিক দিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। এই উপলব্ধিই পরবর্তীতে ব্যক্তি সমাজকর্ম ও পেশাদার সমাজকর্ম পদ্ধতির জন্ম দেয়।

    সুতরাং, পূর্ববর্তী সনাতন সাহায্য ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা ও পেশাগত সমাজকর্ম পদ্ধতির ভিত রচনায় ১৮৩৪ সালের সংস্কার আইনটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন