সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে সংঘটিত একটি ঘটনা মানুষের ভর আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও জীবন প্রণালিতে সুদূরপ্রসারী আমূল পরিবর্তন বয়ে আনে। উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। শিল্পায়ন ও শহরায়নের ফলে নানাবিধ সুযোগ- সুবিধা সৃষ্টি হলেও সমাজজীবনে সৃষ্টি হয় নতুন নতুন জটিল সমস্যা। যার ফলস্বরূপ উদ্ভাবিত হয় বৈজ্ঞানিক সমাধান ব্যবস্থার।
- ক)(1)
বিভারিজ রিপোর্ট কী?
- খ)(2)
শিল্প দুর্ঘটনা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ঐতিহাসিক ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রভাব সমাজকর্মের বিকাশে কীভাবে ভূমিকা রাখে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভারিজ রিপোর্ট হলো ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তার একটি সার্বিক রূপরেখা ও সুপারিশমালা, যা ১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বিভারিজ পেশ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্প দুর্ঘটনা বলতে কল-কারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় যন্ত্রপাতি পরিচালনা, ত্রুটিপূর্ণ পরিবেশ, অগ্নিকাণ্ড বা অসাবধানতার কারণে আকস্মিকভাবে শ্রমিকদের শারীরিক আঘাত, পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুজনিত ক্ষতি হওয়াকে বোঝায়। এটি শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট এক অন্যতম প্রধান নেতিবাচক পরিণতি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক ‘শিল্পবিপ্লব’ (Industrial Revolution)-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের আবিষ্কার ও ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, তাই শিল্পবিপ্লব নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সময়কাল (১৭৬০-১৮৫০), উৎপাদন ও বণ্টনব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে আর্থসামাজিক রূপান্তরের চিত্রটি সরাসরি শিল্পবিপ্লবের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। এর ফলে সমাজজীবনে যেমন আধুনিকায়ন এসেছে, তেমনই সৃষ্টি হয়েছে নানা জটিল সামাজিক সমস্যা। সুতরাং, উদ্দীপকের ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো শিল্পবিপ্লব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পবিপ্লবের প্রভাব আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক সমাজকর্মের বিকাশে প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
শিল্পবিপ্লবের ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তি সমস্যা, বেকারত্ব, শিল্প দুর্ঘটনা, শিশুশ্রম, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং সনাতন পারিবারিক কাঠামোর ভাঙনের মতো বহুমুখী জটিল সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সনাতন দানশীলতা বা পরোপকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে এই জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এসব বহুমুখী সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত, স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সমাধানের তাগিদেই আধুনিক সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটে। সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয়, কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর পেশা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সুতরাং বলা যায়, শিল্পবিপ্লবোত্তর জটিল সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তাই আধুনিক সমাজকর্মের পেশাগত রূপ ও বিকাশ নিশ্চিত করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও