সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ছকের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
- ক)(1)
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
- খ)(2)
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তোমার ধারণা বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রত্যয়কে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজজীবনে উত্ত প্রত্যয়টি কতটুকু প্রভাব ফেলে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান ও প্রথম মাধ্যম হলো পরিবার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠান (Institution) হলো সমাজের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত স্থায়ী নিয়মকানুন, কার্যপ্রণালি এবং বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার সমষ্টি। সমাজবিজ্ঞানী সামনারের মতে, প্রতিষ্ঠান গঠিত হয় ধারণা (concept) এবং কাঠামোর (structure) সমন্বয়ে। অর্থাৎ পরিবার, বিবাহ, ধর্ম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান যা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও রীতির মাধ্যমে সমাজকে শৃঙ্খলিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পঞ্চম অধ্যায়ের 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' (Kinship) প্রত্যয়টিকে নির্দেশ করছে।
মানুষের সাথে মানুষের যে সামাজিক ও জৈবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে জ্ঞাতিসম্পর্ক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বলে। এই সম্পর্ক বিভিন্ন ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের মতে, জ্ঞাতিসম্পর্কের মূল ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে রক্ত সম্পর্কিত (Consanguineal), বৈবাহিক বন্ধনজাত (Affinal), প্রথাগত বা কাল্পনিক বন্ধন (Fictive kinship) ইত্যাদি।
উদ্দীপকের ছকটিতে চারটি তীরচিহ্নে যথাক্রমে 'রক্ত সম্পর্কিত বন্ধন', 'বৈবাহিক বন্ধন', 'প্রথাগত বন্ধন' এবং 'কাল্পনিক বন্ধন' উল্লেখ রয়েছে। এ উপাদানগুলো স্পষ্টভাবেই জ্ঞাতিসম্পর্কের বিভিন্ন ভিত্তি ও রূপকে প্রকাশ করে। সুতরাং, ছকের কেন্দ্রে থাকা '?' চিহ্নিত স্থানে জ্ঞাতিসম্পর্ক প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজজীবনে উক্ত প্রত্যয়টি অর্থাৎ 'জ্ঞাতিসম্পর্ক' অপরিসীম প্রভাব ফেলে। এটি সমাজকাঠামোর ভিত্তি এবং মানবসমাজের সংহতি ও শৃঙ্খলার প্রধান চালিকাশক্তি। নিচে সমাজজীবনে জ্ঞাতিসম্পর্কের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সামাজিক সংহতি ও নিরাপত্তা বিধান: জ্ঞাতিসম্পর্ক মানুষের মধ্যে পারস্পরিক একাত্মতা ও ঐক্যের অনুভূতি তৈরি করে। বিপদে-আপদে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা একে অপরের পাশে দাঁড়ায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
২. পরিবার গঠন ও বংশরক্ষা: বৈবাহিক জ্ঞাতিসম্পর্কের মাধ্যমে সমাজস্বীকৃত পরিবার গঠিত হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের জন্ম ও লালন-পালন সম্ভব হয়।
৩. সামাজিকীকরণ ও নৈতিক শিক্ষা: জ্ঞাতিসম্পর্কের বৃত্তেই শিশুর প্রথম সামাজিকীকরণ ঘটে। চাচা-চাচি, মামা-খালা, দাদা-দাদি প্রমুখ আত্মীয়ের স্নেহ-শাসন ও আদর্শ শিশুর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৪. সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার বণ্টন: সমাজব্যবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং সামাজিক পদমর্যাদা নির্ধারণে জ্ঞাতিসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
৫. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ রক্ষা: জ্ঞাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব নিয়মকানুন, প্রথা এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদর্শন সামাজিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
অতএব, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রিক সমাজব্যবস্থাকে সুসংহত, সুশৃঙ্খল ও গতিশীল রাখতে জ্ঞাতিসম্পর্কের গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও