ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুলতান শাহরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর স্বীয় কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করে পার্শ্ববর্তী রাজাদের বিরুদ্ধে সমর প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পার্শ্ববর্তী রাজাদের মধ্যে একজন এ আক্রমণ সম্প্রসারণকে তার রাজ্যের প্রতি হুমকিস্বরূপ মনে করেন। সুলতান পার্শ্ববর্তী রাজার বিশাল ছিল যে, জনগণ তার মাধ্যমে আমিরের কাছে যে আবেদন করতেন আমির তা পূর্ণ করতেন। বাহিনীর নিকট প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেন। পরের বছর পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে এবং রাজ্য বিস্তারের আশায় এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রণক্ষেত্রে পুনরায় শিবির স্থাপন করেন। প্রতিপক্ষের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও অসীম বীরত্ব, উন্নত মানের যুদ্ধ কৌশল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার দ্বারা বিজয়ীর গৌরব অর্জন করেন।
- ক)(1)
মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
আলাউদ্দিন হুসাইনকে কেন 'জাহানসুজ' উপাধি দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাসকের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত শাসকের সামরিক সফলতার কারণগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম শিহাবুদ্দিন বা মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘুরি বংশের শাসক আলাউদ্দিন হুসাইনকে 'জাহানসুজ' বা 'জগৎ দাহক' বলা হয়, কারণ তিনি গজনির সাথে পূর্বের বৈরিতার প্রতিশোধ নিতে ঐতিহাসিক গজনি নগরী আক্রমণ করে দখল করেন এবং টানা সাত দিন ধরে অগ্নিকাণ্ড চালিয়ে এককালের সমৃদ্ধশালী সমগ্র নগরীকে জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করেন। এ নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের জন্য তিনি 'জাহানসুজ' উপাধি পান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতান শাহরিয়ারের কর্মকাণ্ডের সাথে পঠিত ইতিহাসের শাসক মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরির মিল লক্ষ করা যায়।
মুহাম্মদ ঘুরি ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়ে ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের বিশাল বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। কিন্তু তিনি এতে ভেঙে না পড়ে দেশে ফিরে সৈন্য সমাবেশ ও উন্নত রণকৌশল গ্রহণ করেন। পরের বছর (১১৯২ খ্রি.) তিনি তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে অসীম বীরত্ব ও কৌশলে পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন। উদ্দীপকের সুলতান শাহরিয়ারও প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হয়ে দমে না গিয়ে পরবর্তী বছর উন্নত যুদ্ধকৌশল ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে পুনরায় যুদ্ধ করে বিজয় লাভ করেন। ফলে উভয় চরিত্রের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য দেখা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের আলোকে মুহাম্মদ ঘুরির সামরিক সফলতার মূল কারণগুলো ছিল তাঁর অদম্য সংকল্প, উন্নত যুদ্ধকৌশল, সুদক্ষ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ক্ষমতা।
প্রথমত, তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হয়েও মুহাম্মদ ঘুরি হতোদ্যম হননি। তিনি পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজ বাহিনীর দুর্বলতা চিহ্নিত করেন এবং কঠোর সামরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন।
দ্বিতীয়ত, তিনি প্রতিপক্ষের ভারী ও শ্লথ হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গতিশীল ও ক্ষিপ্রগতির অশ্বারোহী তীরন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। রণক্ষেত্রে বাহিনীকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে সুপরিকল্পিত আক্রমণের কৌশল গ্রহণ করেন।
তৃতীয়ত, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'অসীম বীরত্ব, উন্নত মানের যুদ্ধ কৌশল এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা'র মতোই ঘুরির দূরদর্শিতা ও সময়োচিত সামরিক প্রস্তুতি শত্রু পক্ষের সংখ্যার আধিক্যকে অকার্যকর করে দেয়। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তাঁর এই কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বই তাঁকে চূড়ান্ত সামরিক সফলতা প্রদান করে এবং ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও