গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: নিলয় ও তার বন্ধু রবিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন হলেও দুজনই খুব নিষ্ঠাবান। তারা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এই গুণ তারা পরিবার ও সমাজ থেকে অর্জন করেছে।
দৃশ্যকল্প-২: বাড়ি তৈরি করা → সঞ্চয়ের দূরদর্শিতা থাকা → বাজেট তৈরি করে চলা

  1. ক)

    গৃহ ব্যবস্থাপনা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'সিদ্ধান্ত গ্রহণে মান প্রভাব বিস্তার করে'— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নিলয় ও রবিনের তথ্য, প্রেরণা সৃষ্টিকারী কোন ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ 'লক্ষ্যগুলো পরস্পর নির্ভরশীল'— মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করার ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মান হলো কোনো কাজের বা বিষয়ের সঠিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা পরিমাপের মাপকাঠি। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। উন্নত মানসম্পন্ন চিন্তা ও মূল্যবোধ মানুষকে ভালো-মন্দ বিবেচনা করতে শেখায়। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোন বিকল্পটি গ্রহণ করা উচিত, তা নির্ধারণে ব্যক্তির মূল্যবোধজাত 'মান' সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিলয় ও রবিনের তথ্য গৃহ ব্যবস্থাপনার অন্যতম চালিকাশক্তি বা প্রেরণা সৃষ্টিকারী ধারণা 'মূল্যবোধ' (Value)-কে নির্দেশ করে।

    মূল্যবোধ হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস, আদর্শ ও নৈতিকতার সমষ্টি, যা তার আচরণ, মনোভাব ও সিদ্ধান্তকে পরিচালনা করে। মূল্যবোধ ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে অর্জন করে।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ দেখা যায়, নিলয় ও রবিন ভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করলেও তারা অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এই নৈতিক গুণ তারা পরিবার ও সমাজ থেকে শিক্ষা পেয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ও নিষ্ঠা বজায় রাখা মানুষের নৈতিক মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, তাদের এই আচরণ প্রেরণা সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে 'মূল্যবোধ'-কে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২-এ উপস্থাপিত লক্ষ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলো একটির সাথে আরেকটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত অর্থাৎ পরস্পর নির্ভরশীল।

    গৃহ ব্যবস্থাপনায় লক্ষ্য সাধারণত তিন ধরনের হয়— দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, মধ্যবর্তী লক্ষ্য এবং তাৎক্ষণিক বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য। এই বিভিন্ন স্তরের লক্ষ্যগুলো একটি চূড়ান্ত বা বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২-এ তিনটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে: 'বাড়ি তৈরি করা', 'সঞ্চয়ের দূরদর্শিতা থাকা' এবং 'বাজেট তৈরি করে চলা'। এখানে 'বাড়ি তৈরি করা' হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এই বড় লক্ষ্যটি অর্জন করতে হলে পরিবারের মধ্যে আর্থিক প্রস্তুতি অর্থাৎ 'সঞ্চয়ের দূরদর্শিতা' থাকতে হবে, যা একটি মধ্যবর্তী লক্ষ্য। আবার নিয়মিত সঞ্চয় নিশ্চিত করতে হলে দৈনন্দিন বা মাসিক আয়ের সুষ্ঠু বণ্টন প্রয়োজন, যার জন্য 'বাজেট তৈরি করে চলা' আবশ্যক, যা তাৎক্ষণিক বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য।

    অতএব, যথাযথ বাজেট প্রণয়ন না করলে সঞ্চয় সম্ভব নয়, আর সঞ্চয় না থাকলে বাড়ি তৈরির মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণ করা অসম্ভব। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২-এর লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে পরস্পর নির্ভরশীল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন