ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শাসক রাশেদ উত্তরাধিকারসূত্রে সিংহাসনে আরোহণ করে নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন এবং তার অনুচরবর্গের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। বারবার তাকে যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয় এবং সব শত্রুকে তিনি নির্মূল করতে পারেননি। এক যুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর দখল করেন এবং ঐ শহরের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করেন। শাসক রাশেদ আট মাস এ শহরে বিলাসব্যসনে কাটান। এ সুযোগে তার শত্রু সংগঠিত হয়ে আবার আক্রমণ করেন। ফলে শাসক রাশেদ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। নিকট আত্মীয়দের সাহায্য-সহযোগিতা না পেয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী দেশের রাজার সাহায্য লাভ করেন। অবশেষে রাজ্যহারা হয়ে নির্বাসিত হন।
- ক)(1)
'বাবর' শব্দের অর্থকী?
- খ)(2)
'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের কোন সম্রাটের কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সম্রাটের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বাবর' শব্দের অর্থ 'সিংহ'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' বা 'সড়ক-ই-আজম' হলো সুর বংশের শাসক শেরশাহ কর্তৃক নির্মিত ঐতিহাসিক সুবিস্তৃত মহাসড়ক। বাংলার সোনারগাঁও থেকে শুরু হয়ে এই সড়কটি দিল্লি, লাহোর হয়ে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের পেশোয়ার পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল। সাম্রাজ্যের দ্রুত সামরিক চলাচল, বাণিজ্য উন্নয়ন এবং ডাক যোগাযোগের সুবিধার জন্য শেরশাহ এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। রাস্তার দুই পাশে ছায়াদার বৃক্ষ রোপণ, কূপ খনন এবং নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর সরাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও উত্তরাধিকারী সম্রাট হুমায়ুনের কর্মকাণ্ড ও জীবনের মিল পাওয়া যায়। সম্রাট হুমায়ুন সিংহাসনে আরোহণ করেই নানা অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শত্রুর সম্মুখীন হন। তিনি আফগান নেতা শেরশাহ সুরি এবং গুজরাটের বাহাদুর শাহের বিরুদ্ধে সংঘাতে লিপ্ত হন। উদ্দীপকে রাশেদের মতো হুমায়ুন গৌড় (বাংলা) দখল করে এর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে শহরের নাম রাখেন 'জান্নাতাবাদ' এবং সেখানে প্রায় ছয় থেকে আট মাস আমোদ-প্রমোদে সময় কাটান। এই সুযোগে শেরশাহ তাঁর শক্তি বৃদ্ধি করে বেনারস ও জৌনপুর অধিকার করেন এবং দিল্লির সাথে হুমায়ুনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরিণামে ১৫৩৯ সালে চৌসার যুদ্ধ এবং ১৫৪০ সালে কনৌজের (বিলগ্রাম) যুদ্ধে শেরশাহের কাছে হুমায়ুন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং নিজ ভাইদের অসহযোগিতায় রাজ্য হারিয়ে পারস্যের শাহ তাহমাস্পের আশ্রয় লাভ করে দীর্ঘ ১৫ বছর নির্বাসিত জীবন যাপন করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও শেরশাহের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পেছনে সামরিক অসতর্কতা, দূরদর্শিতার অভাব ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। প্রথমত, সামরিক বিজয়ের পর হুমায়ুন দীর্ঘকাল নিশ্চেষ্ট ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতেন। গৌড় অধিকারের পর তিনি দীর্ঘদিন রাজধানী দিল্লি ও সাম্রাজ্যের পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সেখানে অলস সময় কাটান, যা শত্রু শেরশাহকে পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার অবারিত সুযোগ দেয়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ঘাটতি তাঁর অন্যতম দুর্বলতা ছিল। শেরশাহের চতুর কূটকৌশল ও শক্তিবৃদ্ধি তিনি সময়মতো উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন। তৃতীয়ত, চৌসা ও কনৌজের যুদ্ধে হুমায়ুনের ভুল রণকৌশল, নদীর তীরবর্তী স্থানে ক্যাম্প স্থাপন এবং শেরশাহের অতর্কিত আক্রমণ প্রতিহত করতে না পারা তাঁর চূড়ান্ত পরাজয় ডেকে আনে। চতুর্থত, সবচেয়ে বড় কারণ ছিল হুমায়ুনের ভাইদের বিশ্বাসঘাতকতা। কামরান, আসকারি ও হিন্দাল দুর্যোগের মুহূর্তে হুমায়ুনকে সাহায্য না করে বরং নিজেদের স্বার্থচিন্তায় নিমগ্ন ছিলেন। ভাইদের অসহযোগিতা মুঘল বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেয়নি। অতএব, নিজের রাজনৈতিক অসতর্কতা ও অপরিণামদর্শিতা এবং ভাইদের বৈরিতা ও শেরশাহের রণকৌশলের শ্রেষ্ঠত্বই হুমায়ুনের সাময়িক সিংহাসনচ্যুতি ও পরাজয়ের মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও