সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শিরীন রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়াতে গিয়ে এমন একটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাথে পরিচয় হয়, যাদের প্রধান দেবতার নাম 'মারাংবুরো'। তাদের গ্রামপ্রধানের নাম মাঝি। ইতিহাসে এ ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর একটি বিদ্রোহের ঘটনা বিখ্যাত হয়ে আছে। বেশ কিছুদিন আগে শিরীন সিলেট'বেড়াতে গিয়েঅন্য আরেকটি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পরিচয় পায়, যারা বিশেষ ধরনের কাপড় ও নৃত্যের জন্য বিখ্যাত।
- ক)(1)
'নোকনা' কী?
- খ)(2)
প্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে শিক্ষারভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিরীনের রাজশাহীতে দেখা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত শেষোক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীটির সাংস্কৃতিক জীবনের বৈচিত্র্য বিশ্লেষণকরো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গারো সমাজের প্রথা অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী মনোনীত কন্যাকে 'নোকনা' বলা হয় (সাধারণত পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান। অতীতে গ্রামীণ ক্ষমতা মূলত ভূমি ও বংশমর্যাদার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে আধুনিকায়নের ফলে শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ বিচার-সালিস, গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও নীতি নির্ধারণে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন। শিক্ষিত মানুষ সচেতন হওয়ায় তারা সনাতন ক্ষমতা কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সমাজে নেতৃত্ব প্রদান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিরীনের রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীটি হলো 'সাঁওতাল'।
সাঁওতালরা অস্ট্রিক বা প্রাক-দ্রাবিড়ীয় মানবগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. সমাজ ও ক্ষমতা কাঠামো: সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। তাদের গ্রামপ্রধানকে 'মাঝি' বা 'মাঝি হারাম' বলা হয়, যিনি বিচার-আচার ও গ্রাম পরিচালনা করেন। তাকে সহযোগিতার জন্য পারানিক, গোদেত ইত্যাদি পদ রয়েছে।
২. ধর্ম ও বিশ্বাস: সাঁওতালদের প্রধান দেবতার নাম 'মারাংবুরো' এবং অন্যান্য দেবতাদের তারা 'বোঙ্গা' বলে। তারা পুনর্জন্ম ও আত্মায় বিশ্বাস করে।
৩. ঐতিহাসিক ভূমিকা: ১৮৫৫ সালের বিখ্যাত সাঁওতাল বিদ্রোহ (সিধু-কানহুর নেতৃত্বে) ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক অনন্য ইতিহাস।
৪. জীবিকা ও সংস্কৃতি: তারা ঐতিহ্যগতভাবে কৃষিজীবী। তাদের সমাজে যৌথ নৃত্য-গীতের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বিশেষ করে সোহরাই উৎসব ও বসন্ত উৎসব (বাহা পরব) তারা উৎসাহের সাথে উদযাপন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শেষোক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীটি হলো সিলেটের 'মণিপুরি'। এদের সাংস্কৃতিক জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও তাঁতশিল্প: মণিপুরিরা তাঁতশিল্প ও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের জন্য বিশ্বখ্যাত। মণিপুরি নারীরা অত্যন্ত দক্ষ তাঁতি। তারা নিজস্ব পোশাকে সূক্ষ্ম নকশা ফুটিয়ে তোলে। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে 'ইনাফি' (ওড়না), 'ফানেক' (স্কার্টসদৃশ পোশাক) ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২. মণিপুরি নৃত্য: মণিপুরি সংস্কৃতির প্রধান আকর্ষণ হলো তাদের ধ্রুপদী নৃত্য। মণিপুরি নৃত্য শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্বে সমাদৃত। বিশেষ করে 'রাসনৃত্য' তাদের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যা রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত মার্জিত ভঙ্গিতে পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া 'লাই হারাওবা' নৃত্য তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ।
৩. ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব: মণিপুরিদের প্রধান উৎসব রাস উৎসব, হোলি বা দোলযাত্রা এবং রথযাত্রা। এসব উৎসবকে কেন্দ্র করে মণিপুরি সমাজ নাচ, গান ও ধর্মীয় আচারে মেতে ওঠে।
৪. খাদ্যাভ্যাস ও গৃহনির্মাণ: মণিপুরিরা সাধারণত নিরামিষভোজী (বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিরা) এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তাদের বাড়িঘরের আঙিনা ও গঠনশৈলীতে পরিপাটি ও নান্দনিক ছাপ পরিলক্ষিত হয়।সুতরাং বলা যায়, ঐতিহ্যবাহী তাঁতের কাপড়, অনুপম ধ্রুপদী নৃত্য এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎসব মণিপুরিদের সাংস্কৃতিক জীবনকে বাংলাদেশের অন্যান্য সকল নৃ-গোষ্ঠীর চেয়ে অনন্য ও সমৃদ্ধ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও