সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
তানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়টিতে ভর্তি হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীতেইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের পর সমাজজীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই সেটির উদ্ভব হয়েছে। আর এই বিষয়টি সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করে এবং সমাজের বাস্তবতা অনুধাবনে সাহায্য করে।
- ক)(1)
"সমাজবিজ্ঞান সমাজের স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতার বিজ্ঞান"– উক্তিটি কার?
- খ)(2)
"পরিবার একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তানিয়ার পঠিত বিষয়টি কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির জ্ঞান অপরিহার্য- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজবিজ্ঞান সমাজের স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতার বিজ্ঞান"– উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁতের (Auguste Comte)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান, কারণ মানব ইতিহাসের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রতিটি সমাজেই কোনো না কোনো রূপে পরিবারের অস্তিত্ব বিদ্যমান।
নর-নারীর যৌন সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও সামাজিকীকরণের অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে প্রতিটি সমাজে পরিবার গড়ে উঠেছে। আদিম শিকার-সংগ্রহকারী সমাজ থেকে শুরু করে আধুনিক জটিল শিল্পসমাজ পর্যন্ত এমন কোনো মানবগোষ্ঠী পাওয়া যায় না যেখানে পরিবার নেই। তাই স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কাঠামোগত পার্থক্য থাকলেও মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষায় এর আবশ্যিক উপস্থিতির কারণে পরিবারকে একটি সর্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে তানিয়ার পঠিত বিষয়টি হলো 'সমাজবিজ্ঞান' (Sociology)।
সমাজবিজ্ঞান হলো মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং মানুষের সামগ্রিক আচরণ পর্যালোচনার বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে (বিশেষ করে ইংল্যান্ডে) শিল্পবিপ্লব এবং ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লবের ফলে সমাজকাঠামো ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অভাবনীয় রূপান্তর ঘটে। এই পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট নতুন সামাজিক সমস্যা, জটিলতা এবং মানবসম্পর্কের বাস্তবতা অনুধাবনের তাগিদ থেকেই ১৯ শতকে অগাস্ট কোঁতের হাত ধরে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, তানিয়া এমন একটি বিষয় অধ্যয়ন করছে যার উদ্ভব অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবোত্তর বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে হয়েছিল এবং যা সমাজের সামগ্রিক দিক আলোচনা করে বাস্তবতাকে অনুধাবন করায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রত্যক্ষভাবে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, তানিয়ার পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান পাঠের জ্ঞান অত্যন্ত অপরিহার্য— উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ সামাজিক জীব, এবং জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সে সমাজের বিভিন্ন স্তর ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকে। সমাজবিজ্ঞান ব্যক্তির সাথে সমাজের এবং সমাজের বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিশদ আলোচনা করে। সামাজিক সমস্যার স্বরূপ উদ্ঘাটন, সামাজিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং সমাজের সুষম উন্নয়নের জন্য সমাজবিজ্ঞান পাঠের কোনো বিকল্প নেই।
প্রথমত, পরিবার, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির মতো মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন ও কার্যাবলি বুঝতে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অপরাধ, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব এবং পারিবারিক ভাঙনের মতো সামাজিক সংকটগুলোর পেছনের মূল কারণ চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রদানে সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ পথ দেখায়। তৃতীয়ত, জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও নীতি প্রণয়নে সমাজবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ সমাজকল্যাণমুখী ও কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে পারস্পরিক সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনেও সমাজবিজ্ঞান অপরিহার্য অবদান রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, মানুষ যেহেতু সামাজিক পরিবেশের বাইরে বাস করতে পারে না, তাই সুস্থ, সুন্দর ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সমাজজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও