সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সেবায়েত কে?
- খ)(2)
সামাজিক উন্নয়ন বলতেকী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থান সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়কে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
সমাজকর্মের সাথে উত্ত প্রত্যয়ের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিন্দু আইন অনুসারে দেবোত্তর সম্পত্তির সার্বিক পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পূজার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সেবায়েত বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক উন্নয়ন বলতে সমাজের সর্বাঙ্গীণ এবং কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়, যার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায়।
এটি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং দারিদ্র্য দূরীকরণ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মূল লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার বিকাশ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থান সমাজকর্মের 'সামাজিক নিরাপত্তা' (Social Security) প্রত্যয়কে নির্দেশ করছে।
লর্ড উইলিয়াম বেভারিজের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা হলো সমাজের সদস্যদের এমন কিছু আকস্মিক বিপদ বা ঝুঁকি (যেমন—বার্ধক্য, অসুস্থতা, বেকারত্ব, পঙ্গুত্ব ইত্যাদি) থেকে রক্ষা করার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা, যাতে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায় যে, '?' থেকে তিনটি শাখা বের হয়েছে—সামাজিক বিমা (Social Insurance), সামাজিক সাহায্য (Social Assistance) এবং সমাজসেবা (Social Services)। সমাজকর্মে সামাজিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে এই তিনটি উপাদানকে চিহ্নিত করা হয়। কোনো ব্যক্তির উপার্জন ক্ষমতা সাময়িক বা স্থায়ীভাবে হ্রাস পেলে বা বন্ধ হলে সামাজিক বিমা ও সামাজিক সাহায্যের মাধ্যমে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে সমাজসেবা ভূমিকা রাখে। অতএব, চিত্রটির মূল ধারণাটি হলো 'সামাজিক নিরাপত্তা'।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সামাজিক নিরাপত্তা'। সমাজকর্মের সাথে সামাজিক নিরাপত্তার অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
প্রথমত, উদ্দেশ্যগত সাদৃশ্য: সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তা উভয় ব্যবস্থারই মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিধান, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিক সম্পর্ক: শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের নানা আইন (যেমন ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন, ১৯৪২ সালের বেভারিজ রিপোর্ট এবং ১৯৩৫ সালের সামাজিক নিরাপত্তা আইন) থেকেই আধুনিক সমাজকর্মের ভিত্তি রচিত ও পেশাগত রূপ লাভ করেছে।
তৃতীয়ত, সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ: সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি (যেমন—সামাজিক বিমা, সামাজিক সাহায্য, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি) সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং সঠিক ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সামাজিক প্রশাসন পদ্ধতির সফল প্রয়োগ প্রয়োজন হয়। সমাজকর্মের জ্ঞান ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারে না।
চতুর্থত, স্বাবলম্বী করে তোলা: সামাজিক নিরাপত্তা ব্যক্তিকে আকস্মিক বিপর্যয় থেকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেয়, আর সমাজকর্ম তাকে নিজের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে সমাজে আত্মনির্ভরশীল ও কার্যকরভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
সুতরাং, সামাজিক নিরাপত্তা হলো সামাজিক সুরক্ষার অবকাঠামো, আর পেশাদার সমাজকর্ম হলো সেই কাঠামোকে মানবিক, বৈজ্ঞানিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার পেশাগত মাধ্যম। তাই উভয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও পারস্পরিক পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও