সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
কুমিল্লার বিজয়পুরের মৃৎশিল্পীদের সমস্যা মোকাবিলায় একটি সাহায্যকারী পেশা অনুশীলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সমাজকর্মী প্রফেসর 'এম'-কে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি মৃৎশিল্পী দলের তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যা চিহ্নিত করেন,প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
- ক)(1)
পেশাদার প্রতিনিধি কে?
- খ)(2)
ব্যক্তি সমাজকর্ম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন সহায়ক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"সমাজকর্মের জ্ঞান এবং সমাজকর্ম সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জনের প্রধান উৎস সমাজকর্ম গবেষণা।"-মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যক্তি সমাজকর্মের পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ প্রয়োগ করে সাহায্যপ্রার্থীকে তার সমস্যা সমাধানে সহায়তা প্রদান করেন, তাকে পেশাদার প্রতিনিধি (Professional Agent বা Change Agent) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতির একটি শাখা, যার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে সাহায্য করা হয় যাতে সে তার নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের সামাজিক ভূমিকা কার্যকরভাবে পালন করতে পারে এবং নিজেই নিজের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়। হেলেন হ্যারিস পার্লম্যানের মতে, ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা মানবকল্যাণ সংস্থাসমূহের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার সামাজিক কার্যক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে 'সমাজকর্ম গবেষণা' (Social Work Research) প্রয়োগ করা হয়েছে।
সমাজকর্ম গবেষণা হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সমাজকর্মের লক্ষ্য অর্জনে বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমস্যার কারণ উদঘাটন, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তার কার্যকর সমাধানের সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়। এটি সমাজকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পেশাগত অনুশীলনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কুমিল্লার বিজয়পুরের মৃৎশিল্পীদের সমস্যা মোকাবিলায় একটি সাহায্যকারী পেশা অনুশীলনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রফেসর 'এম'-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় মৃৎশিল্পী দলের তথ্য সংগ্রহ করেন, সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এই প্রতিটি পদক্ষেপই সমাজকর্ম গবেষণার সুনির্দিষ্ট ধাপসমূহকে নির্দেশ করে। সুতরাং, উদ্দীপকে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি সমাজকর্ম গবেষণা প্রয়োগ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সমাজকর্মের জ্ঞান এবং সমাজকর্ম সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জনের প্রধান উৎস সমাজকর্ম গবেষণা"— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
সমাজকর্ম গবেষণা হলো এমন একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও অনুসন্ধিৎসু প্রক্রিয়া, যা সমাজকর্মের সামগ্রিক জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে এবং সমাজকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে মানব আচরণ, সামাজিক সমস্যা এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচির কার্যকারিতা বস্তুনিষ্ঠভাবে পরিমাপ করা যায়।
সমাজকর্ম গবেষণা নিম্নলিখিত কারণে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত:
১. তাত্ত্বিক জ্ঞানের বিকাশ: সমাজের পরিবর্তনশীল সমস্যার প্রকৃতি ও কারণ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উদঘাটন করে নতুন জ্ঞান ও তত্ত্ব সৃষ্টিতে এ গবেষণা কাজ করে।
২. পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন: সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন- ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম, সমষ্টি সমাজকর্ম) বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর, তা সমাজকর্ম গবেষণার মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব হয়।
৩. নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন: বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সামাজিক নীতি ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেয় এই গবেষণা।
৪. পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন: সমস্যা চিহ্নিতকরণ, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ফলাফল ব্যাখ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলো একজন সমাজকর্মী কেবল গবেষণার অনুশীলন ও প্রয়োগের মাধ্যমেই অর্জন করতে পারেন।উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রফেসর 'এম' মৃৎশিল্পীদের সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কার্যকর হস্তক্ষেপের জন্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছেন।
অতএব, বলা যায় যে বাস্তবভিত্তিক তথ্য আহরণ, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং কার্যকর পেশাগত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মূল ভিত্তি হলো সমাজকর্ম গবেষণা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও