‍ইতিহাস ২য় পত্র • জাতিসংঘ এবং বিশ্বশান্তি • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

সংঘর্ষে লিপ্ত দুটি রাষ্ট্র আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে থাকলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিকারের জন্য প্রচেষ্টা চালায়। অবশেষে, উত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষের পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংস্থার উদ্দেশ্য সত্যিই প্রশংসনীয়।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক সংখ্যা কত?

    (1)
  2. খ)

    ভেটো কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত সংগঠনের সাফল্য মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক আদালতের (International Court of Justice) মোট বিচারক সংখ্যা ১৫ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভেটো (Veto) একটি লাতিন শব্দ, যার অর্থ 'আমি মানি না' বা 'আমি প্রত্যাখ্যান করি'। এটি কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেওয়া অসম্মতিসূচক বা স্থগিতকারী ক্ষমতা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) কোনো প্রস্তাব এককভাবে বাতিল করার এই বিশেষ ক্ষমতাকে ভেটো ক্ষমতা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাথে জাতিসংঘ (United Nations Organization - UNO)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    বিশ্বশান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি যুদ্ধরত ও আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা, শান্তিচুক্তি সম্পাদন এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে কাজ করে আসছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, দুটি রাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। এই উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও কাজের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানটি জাতিসংঘকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত সংগঠনটি হলো জাতিসংঘ। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে এর সাফল্য সামগ্রিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়।

    জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বে তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধ ঘটতে দেয়নি, যা সংস্থাটির সবচেয়ে বড় সাফল্য। এটি কাশ্মীর সমস্যা, সুয়েজ সংকট (১৯৫৬), কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট (১৯৬২), ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০-৮৮) এবং উপসাগরীয় সংকটের মতো বহু সংকটময় পরিস্থিতিতে সংঘাত প্রশমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

    রাজনৈতিক সাফল্য ছাড়াও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে সংস্থাটির সাফল্য অসামান্য। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা—যেমন UNESCO, UNICEF, WHO, UNHCR প্রভৃতি সংস্থা বিশ্বজুড়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিশু অধিকার রক্ষা, মহামারি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা এবং উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে কাজ করে চলেছে। উপনিবেশবাদের অবসান ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাতেও জাতিসংঘ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।

    যদিও পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ফিলিস্তিন, সিরিয়া বা সাম্প্রতিক বেশ কিছু সংকটে জাতিসংঘ সবসময় কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে, তবুও বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে এবং সংঘাতময় বিশ্বে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে জাতিসংঘের সাফল্য প্রশ্নাতীত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন