মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র রোমেল কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করে। উপকূলীয় জীবনযাত্রার খোলা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠায় সে সুঠামদেহী, প্রচণ্ড সাহসী ও পরিশ্রমী। দৃশ্যকল্প-২: জীবনে চলার পথে মানুষ একে অপরের সাহায্য করে, বিপদে এগিয়ে এসে সমাজের মঙ্গল সাধন করে। আবার সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ মানুষের ক্ষতি, ঘুষ, দুর্নীতি করে মানুষের ক্ষতি করে চলেছে।

  1. ক)

    ফেরেল মানব কী?

    (1)
  2. খ)

    কন্যাশিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ হয় কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    রোমেলের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী কোন পরিবেশের প্রভাব উল্লেখ করা হয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ যে সমস্ত আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব মানবশিশু মানবসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্য পরিবেশে পশুপাখির সাথে লালিত-পালিত হয়, তাদেরকে ফেরেল মানব (Feral child বা বন্য মানব) বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবদেহের কোষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২৩তম জোড়াটি হলো লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। মাতার ডিম্বাণুতে কেবল 'X' ক্রোমোজোম থাকে। পিতার শুক্রাণুতে 'X' অথবা 'Y' ক্রোমোজোম থাকে। নিষেকের সময় পিতার 'X' ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু যদি মাতার ডিম্বাণুর 'X' ক্রোমোজোমের সাথে মিলিত হয়, তবে 'XX' ক্রোমোজোম গঠিত হয়, যার ফলে গর্ভের সন্তান কন্যাশিশু হিসেবে নির্ধারিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রোমেলের ক্ষেত্রে জন্ম-পরবর্তী 'ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের' প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।

    মনোবিজ্ঞানে শিশুর জন্ম-পরবর্তী পরিবেশকে প্রধানত প্রাকৃতিক/ভৌগোলিক পরিবেশ এবং সামাজিক/সাংস্কৃতিক পরিবেশে ভাগ করা হয়। জলবায়ু, আবহাওয়া, ভূ-প্রকৃতি, নদী বা সমুদ্রের নৈকট্য ইত্যাদি ভৌগোলিক বা প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান। এসব উপাদান মানুষের দৈহিক গঠন, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক বৈশিষ্ট্যে গভীর প্রভাব ফেলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রোমেল উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে বড় হয়েছে। সেখানকার উন্মুক্ত আবহাওয়া ও প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠার ফলেই সে সুঠামদেহী, সাহসী ও পরিশ্রমী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়েছে। এটি তার শারীরিক গঠন ও মানসিকতায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সরাসরি প্রভাবকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ মানুষের সমাজমুখী আচরণ (Prosocial behavior) এবং সমাজবিরোধী আচরণ (Antisocial behavior)—এই দুই ধরনের বিপরীতমুখী সামাজিক আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সমাজমুখী আচরণ: উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে—মানুষ একে অপরের সাহায্য করে এবং বিপদে এগিয়ে এসে সমাজের মঙ্গল সাধন করে। এই আচরণটি হলো সমাজমুখী আচরণ বা সহায়ক আচরণ (Prosocial behavior)। নিঃস্বার্থভাবে অপরের উপকার করা, সহানুভূতি প্রকাশ, দানশীলতা ও সহযোগিতা এ আচরণের উদাহরণ। এটি সমাজের সংহতি, শান্তি, ইতিবাচক সম্পর্ক এবং মানবকল্যাণ নিশ্চিত করে।

    ২. সমাজবিরোধী আচরণ: উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখ রয়েছে—সমাজের কিছু মানুষ সর্বক্ষণ অন্যের ক্ষতি, ঘুষ ও দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকে। এটি হলো সমাজবিরোধী আচরণ (Antisocial behavior)। সামাজিক নিয়ম-কানুন, মূল্যবোধ, নীতি ও আইন লঙ্ঘন করে অপরের বা সমাজের ক্ষতিসাধন করাই এর মূল বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের আচরণের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি হয়।

    তুলনা: সমাজমুখী আচরণ সমাজের ভিত্তি মজবুত করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে, অন্যদিকে সমাজবিরোধী আচরণ সমাজের স্বাভাবিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে। সমাজমুখী আচরণের পেছনে সহানুভূতি ও নৈতিকতা কাজ করে, অপরদিকে সমাজবিরোধী আচরণের পেছনে চরম স্বার্থপরতা, লোভ ও আক্রমণাত্মক মনোভাব কাজ করে। সুতরাং, উভয় আচরণই সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ফল হলেও সমাজের অগ্রগতিতে এদের প্রভাব সম্পূর্ণ বিপরীত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন