ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রদত্ত হকের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    আযিমত কী?

    (1)
  2. খ)

    'আমার উম্মত কোনো ভুলের উপর একতাবদ্ধ হতে পারে না'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ছকের ৩ নম্বর উৎসটির প্রয়োজনীয়তা তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ১ নম্বর উৎসটি হাদিস ছাড়া বোঝা অসম্ভব- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামী শরিয়তে সাধারণ অবস্থায় বান্দার জন্য নির্ধারিত মূল ও অপরিবর্তনীয় বিধানকে 'আযিমত' বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত বাক্যটি মহানবী (সা.)-এর একটি প্রসিদ্ধ হাদিস, যা মূলত ইসলামী শরিয়তের তৃতীয় উৎস 'ইজমা'-এর প্রামাণিকতাকে নির্দেশ করে। এর অর্থ হলো, মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগের মুসলিম উম্মাহর নির্ভরযোগ্য মুজতাহিদ বা আলিমগণ যদি কোনো ধর্মীয় বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্যে পৌঁছান, তবে তা ভ্রান্ত বা বাতিল হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক সিদ্ধান্তকে ভুল বা পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্ত রেখেছেন, ফলে এরূপ ইজমা শরিয়তের একটি অকাট্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকের ৩ নম্বর উৎসটি হলো 'আল-ইজমা' (الإجماع)। ইসলামী শরিয়তের চারটি প্রধান উৎসের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর পরেই ইজমার স্থান।

    ইসলামের ক্রমবিকাশ ও যুগ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানবসমাজে নিত্যনতুন সমস্যা ও বিষয়ের উদ্ভব ঘটে, যেগুলোর সুস্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ বিধান হয়তো আল-কুরআন ও আল-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এসব ক্ষেত্রে যুগোপযোগী সমাধান প্রদানে ইজমার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মহানবী (সা.)-এর তিরোধানের পর সাহাবায়ে কিরাম কুরআন ও হাদিসের মৌল নীতির আলোকে বহু নতুন সমস্যার সর্বসম্মত সমাধান দিয়েছিলেন—যেমন কুরআন সংকলন, প্রথম খলিফা নির্বাচন ইত্যাদি। ইজমা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করে এবং ব্যক্তিগত খেয়ালখুশিমতো ব্যাখ্যার পথ বন্ধ করে শরিয়তের বিধানের স্থায়িত্ব ও সর্বজনীনতা নিশ্চিত করে। তাই ইসলামী আইন প্রণয়নে ও আধুনিক সমস্যার শরিয়তসম্মত সমাধানের জন্য ইজমা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উৎস।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ১ নম্বর উৎসটি হলো 'আল-কুরআন'। আল-কুরআনের সার্বিক অনুধাবন ও বাস্তব জীবনের বিধানগুলো কার্যকর করতে হাদিস অপরিহার্য, তাই বলা হয় হাদিস ছাড়া আল-কুরআন পুরোপুরি বোঝা বা অনুসরণ করা অসম্ভব।

    আল-কুরআন হলো ইসলামী শরিয়তের মূল ভিত্তি ও উৎস। তবে কুরআনে অধিকাংশ বিধান সংক্ষেপে ও মূলনীতি আকারে বর্ণিত হয়েছে। এসব সংক্ষিপ্ত ও নীতিগত বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রায়োগিক রূপ তুলে ধরা হয়েছে হাদিসের মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ, আল-কুরআনে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সালাতের ওয়াক্ত, রাকাত সংখ্যা এবং আদায়ের বিশদ নিয়ম কুরআনে বিস্তারিত নেই; মহানবী (সা.) তাঁর সুন্নাহ ও হাদিসের মাধ্যমেই তা শিখিয়ে দিয়েছেন ("তোমরা সেভাবে সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখছো")। একইভাবে যাকাত আদায়ের নির্দেশ কুরআনে থাকলেও তার নিসাব ও পরিমাণ হাদিস দ্বারাই নির্ধারিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনেই ঘোষণা করেছেন—"রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" (সূরা হাশর: ৭)। অতএব, কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝতে এবং তার নির্দেশনাসমূহ বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে হাদিসের সাহায্য গ্রহণ অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন