ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব শফিক একটি বিশ্বখ্যাত গ্রন্থে নিম্নে বর্ণিত বিষয় অধ্যয়ন করে:
বিশেষাংশ অধ্যয়ন | সামগ্রিক অধ্যয়ন
(ক) অনুসরণে নৈতিকতা জাগ্রত হয় | (ক) মানসিক প্রশান্তি লাভ হয়
(খ) জান্নাত জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস অর্জিত হয় | (খ) পারিবারিক সৌহার্দ জেগে ওঠে
(গ) জীবন বিধান হিসেবে গ্রহণ করা যায় | (গ) আদর্শ সমাজ গঠন সহজ হয়
(ঘ) শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত পালন করা হয় | (ঘ) বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব জাগ্রত হয়
- ক)(1)
আল-বাকারা কী?
- খ)(2)
"তারা বধির, মুক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবেনা" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জনাব শফিকের 'বিশেষাংশ অধ্যয়ন' দ্বারা কোন লোকদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'সামগ্রিক অধ্যয়ন' দ্বারা ইঙ্গিতপূর্ণ গ্রন্থটি আদর্শ সমাজ গঠনে কীরূপ ভূমিকা রাখতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আল-বাকারা হলো পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে দীর্ঘতম সূরা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত আয়াতটিতে (সূরা আল-বাকারা: ১৮) মুনাফিক ও কাফিরদের অন্তরের চরম অবাধ্যতা ও হঠকারিতাকে নির্দেশ করা হয়েছে। তারা সত্য কথা শোনে না, সত্য কথা বলে না এবং সত্য পথ উপলব্ধি করার চেষ্টা করে না। তাদের ইন্দ্রিয়সমূহ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তারা সত্য গ্রহণে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়েছে, যেন তারা প্রকৃতপক্ষেই বধির, বোবা ও অন্ধ। ফলে তাদের হিদায়াত বা সত্যের পথে ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব শফিকের 'বিশেষাংশ অধ্যয়ন' দ্বারা মূলত সেই সকল মুসলিম বা ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, যারা ইসলাম ও আল-কুরআনের শিক্ষাকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ না করে কেবল আংশিক বা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে (যেমন: ব্যক্তিগত নৈতিকতা বা আনুষ্ঠানিক ইবাদত) মেনে চলে। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, "তোমরা কি কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান করো?" উদ্দীপকে বিশেষাংশে নৈতিকতা, আখেরাতের বিশ্বাস কিংবা শারীরিক-আর্থিক ইবাদতের মতো কিছু বিষয় গ্রহণ করার কথা বলা হলেও জীবনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে, যা কিতাবের আংশিক অনুসারীদের পরিচায়ক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'সামগ্রিক অধ্যয়ন' দ্বারা ইঙ্গিতপূর্ণ গ্রন্থটি হলো আল-কুরআন, যা একটি আদর্শ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করে। কুরআন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের গ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (কমপ্লিট কোড অব লাইফ)। কুরআনের সামগ্রিক শিক্ষার অনুসরণে সমাজে ব্যক্তিগত শান্তি, পারিবারিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ধনী-দরিদ্র, বর্ণ ও ভাষার ব্যবধান দূর করে বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে এবং সুদ, ঘুষ, জুলুম ও শোষণমুক্ত এক ইনসাফপূর্ণ অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা উপহার দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কুরআনি বিধানের আলোকেই তৎকালীন আইয়ামে জাহেলিয়াতের বর্বর সমাজকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ সমাজে (মদিনা সনদের ভিত্তিতে গঠিত কল্যাণ রাষ্ট্র) রূপান্তরিত করেছিলেন। সুতরাং, একটি শোষণহীন, শান্তিপূর্ণ ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে আল-কুরআনের সামগ্রিক অনুসরণ অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও