ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'হজ' কী?
- খ)(2)
"জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদর্শিত ছকের ১ নম্বর প্রশ্নবোধক'?' চিহ্নের বিষয়টি কীভাবে মুমিনের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রসন্নতা এনে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর যে, ৩ নম্বর প্রশ্নবোধক'?' চিহ্নিত বিষয়টি মুমিন জীবনে আত্মিক উৎকর্ষ সাধন ও আত্মসংযমের জন্য সহায়ক? পাঠ্যবইয়ের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা বা ইচ্ছা করা। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট দিনসমূহে নির্ধারিত নিয়মে পবিত্র কাবা শরিফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত ও নির্দিষ্ট বিধিবিধান পালন করাকে হজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"জাকাত হলো ইসলামের সেতুবন্ধন"— এ কথার অর্থ হলো জাকাত ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে।
মহানবি (সা.) বলেছেন, "জাকাত হলো ইসলামের সেতু" (বায়হাকি)। নদী বা খালের উপর সেতু যেমন দুই পারের মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে, তেমনি জাকাত সমাজের ধনী ও দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে অর্থনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের মেলবন্ধন তৈরি করে। ধনীদের সম্পদে আল্লাহ তায়ালা গরিবের হক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। জাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়, ধনীদের প্রতি গরিবদের হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত হয় এবং সমাজের সামগ্রিক শান্তি ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রদর্শিত ছকের ১ নম্বর প্রশ্নবোধক '?' চিহ্নিত বিষয়টি হলো 'সালাত' (নামাজ)। ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর অন্যতম হলো সালাত, যা মুমিনের শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রসন্নতা অর্জনে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সালাতের মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা লাভ:
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এক চমৎকার হালকা ও নিয়মিত ব্যায়াম সম্পন্ন হয়। সালাতের কিয়াম, রুকু, সিজদা ও বৈঠকের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিকে সচল রাখে এবং হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এছাড়া সালাতের পূর্বে অজু করার মাধ্যমে মানুষের বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহ নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে, যা সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।সালাতের মাধ্যমে মানসিক প্রসন্নতা লাভ:
সালাত মানুষের অন্তরকে প্রশান্ত করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়" (সূরা আর-রাদ: ২৮)। সালাতের মাধ্যমে বান্দা তার স্রষ্টার সাথে একাত্ম হয় এবং মনের সকল দুঃখ-কষ্ট, অভাব ও দুশ্চিন্তা আল্লাহর নিকট পেশ করে হালকা অনুভব করে। সালাতের মাধ্যমে পার্থিব চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে মুক্তি মেলে এবং অন্তরে পরম তৃপ্তি ও আত্মিক সুখ অনুভূত হয়। সুতরাং, সালাত মুমিন জীবনে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রসন্নতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি যে, ৩ নম্বর প্রশ্নবোধক '?' চিহ্নিত বিষয়টি অর্থাৎ 'সাওম' (রোজা) মুমিন জীবনে আত্মিক উৎকর্ষ সাধন ও আত্মসংযমের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। নিম্নে পাঠ্যবইয়ের আলোকে এ বিষয়ে মতামত উপস্থাপন করা হলো:
১. আত্মসংযম অর্জনের উপায়: সাওম বা রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একমাত্র আল্লাহর ভয়ে পানাহার ও ইন্দ্রিয়তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বান্দা প্রবৃত্তি দমনের প্রশিক্ষণ লাভ করে। এর ফলে মুমিন যেকোনো পাপ ও অন্যায় কাজ থেকে নিজের মন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সংযত রাখার শক্তি অর্জন করে।
২. আত্মিক উৎকর্ষ ও পরিশুদ্ধি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "সাওম হলো ঢালস্বরূপ" (বুখারি ও মুসলিম)। এটি মুমিনকে যাবতীয় গুনাহ ও পাপকর্ম থেকে রক্ষা করে। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার মাধ্যমে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, গিবত, অহংকার ইত্যাদি আত্মিক ব্যাধি দূর হয়ে যায় এবং বান্দার রুহানি বা আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. সহমর্মিতা ও নৈতিকতার শিক্ষা: সাওম পালনের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিরা অনাহারে থাকার কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে, যা তাদের মধ্যে সহানুভূতি ও দয়ার উদ্রেক ঘটায়। এটি মানবচরিত্রকে মহিমান্বিত ও উন্নত করে।
পরিশেষে বলা যায়, সাওম কেবল বাহ্যিক উপবাস নয়; বরং এটি মুমিনকে পাপাচার থেকে রক্ষা করে খাঁটি মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলে। তাই এটি মুমিনের আত্মিক উৎকর্ষ সাধন ও আত্মসংযম অর্জনে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও