ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
শিহাব একটি নির্দিষ্ট মাসে ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকেন। এ মাসে গরীব অসহায় লোকদের মাঝে অনেক দান-খয়রাত করেন। মাগরিবের সময় মানুষকে খাবার দেন। একটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারী তার সাথে তর্কে লিপ্ত হলে শিহাব বলেন আমি একটি বিশেষ ইবাদত পালন করছি তাই বেশি কথা বলতে পারবনা।
- ক)(1)
ইবাদতের মূল লক্ষ্য কী?
- খ)(2)
'ইমানের নিদর্শন সালাত'- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
শিহাব কর্তৃক পালনকৃত ইবাদতের ধর্মীয় গুরুত্ব বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
আত্মশুদ্ধি ও সংযম কোন ইবাদতের মাধ্যমে অর্জিত হয়? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইবাদতের মূল লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জন করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সালাত হলো মুমিনের জন্য ইমানের অন্যতম প্রধান বহিঃপ্রকাশ ও নিদর্শন। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে বাধ্যতামূলকভাবে আল্লাহর নির্দেশে সালাত আদায়ের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কাফির ও মুমিনের মধ্যে পার্থক্যকারী হলো সালাত। নিয়মিত সালাত আদায়ের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি নিজেকে খাঁটি মুমিন হিসেবে প্রমাণ করে, তাই সালাতকে ইমানের প্রকাশ্য নিদর্শন বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিহাব কর্তৃক পালনকৃত ইবাদতটি হলো সাওম (রোজা)। ইসলামে সাওমের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। সাওম ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মুসলিমের জন্য রমজান মাসের সাওম পালন ফরজ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, "রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।" এছাড়া সাওম পালনকারীর পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং পরকালে রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা দিয়ে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। উদ্দীপকে শিহাবের মতো সাওম পালনকারী পার্থিব লোভ-লালসা ও কলহ-বিবাদ পরিহার করে আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্রতী হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আত্মশুদ্ধি ও সংযম মূলত সাওম (রোজা) ইবাদতের মাধ্যমে অর্জিত হয়। সাওম মানুষকে কুপ্রবৃত্তি ও সব ধরনের পাপ কাজ থেকে দূরে রেখে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। মাহে রমজানের সাওমের উদ্দেশ্যই হলো তাকওয়া বা আত্মসংযম অর্জন করা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় কামাচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি মিথ্যাচার, পরনিন্দা, গিবত ও ঝগড়া-বিবাদ ইত্যাদি অনৈতিক কাজ থেকেও বিরত থাকতে হয়। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, কেউ যদি রোজা রেখে মন্দ কথা ও কাজ পরিহার না করে, তবে তার পানাহার বর্জন আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। আরও বলা হয়েছে, যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া বা তর্কে লিপ্ত হতে চায়, সে যেন বলে 'আমি রোজাদার'—যা উদ্দীপকে শিহাবের আচরণে ফুটে উঠেছে। এভাবে সাওম পালনের মাধ্যমে ইন্দ্রিয়সমূহ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং মানুষ আত্মশুদ্ধি লাভ করে আল্লাহর প্রকৃত অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে ওঠে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও