ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উমাইয়া খিলাফত (৬৬১-৭৫০ খ্রি.) • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
উত্তর আফ্রিকার এক বিখ্যাত রাজা ছিলেন মিস্টার হান্টার। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। তিনি রাজ্যে বহুবিধ শাসন সংস্কার করে মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দেন। তিনি রাজ্যের সরকারি দপ্তরে তার নিজ মাতৃভাষাকে বাধ্যতামূলক করেন। এছাড়াও তিনি নিজ মাতৃলিপির উৎকর্ষ সাধন, নির্দিষ্ট মানের ধাতব মুদ্রার সংস্কার এবং প্রচলন, ডাক বিভাগের উন্নয়ন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য রাজস্ব ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেন। উত্তর আফ্রিকার শাসকদের মধ্যে মিস্টার হান্টারই শ্রেষ্ঠত্বের আসন অর্জন করে চির ভাস্বর হয়ে আছেন।
- ক)(1)
আরবদের প্রথম রাজা কে ছিলেন?
- খ)(2)
সুলায়মানকে আশীর্বাদের চাবি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মিস্টার হান্টারের সাথে তোমার পঠিত কোন উমাইয়া খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত খলিফার সংস্কারসমূহ পর্যালোচনা। করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা খলিফা প্রথম মুয়াবিয়া (রা.)-কে আরবদের প্রথম রাজা বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উমাইয়া খলিফা সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিককে 'আশীর্বাদের চাবি' (মিফতাহুল খাইর) বলা হয়, কারণ তিনি মৃত্যুর আগে কোনো বংশধরকে না দিয়ে খোদাভীরু ও সুবিচারক ওমর ইবনে আবদুল আজিজকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করে গিয়েছিলেন। তাঁর এই সৎ ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে উমাইয়া খিলাফতে একজন সাধু ও ন্যায়পরায়ণ শাসকের আগমন ঘটেছিল, যা সমগ্র মুসলিম জাহানের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মিস্টার হান্টারের সাথে উমাইয়া খিলাফতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের মিস্টার হান্টার যেমন সিংহাসনে আরোহণ করে সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি দমন করেন এবং শাসনকাজে মাতৃভাষা চালু, নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন ও রাজস্ব ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করেন, তেমনি খলিফা আবদুল মালিকও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত উমাইয়া সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নিয়ে কঠোর হাতে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমন করেন। তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসেবে আরবি বাধ্যতামূলক করেন, রোমান ও পারসিক মুদ্রার পরিবর্তে প্রথম বিশুদ্ধ আরবি হরফে লিখিত নিজস্ব ইসলামি মুদ্রা প্রবর্তন করেন এবং ডাক ব্যবস্থা ও রাজস্ব ব্যবস্থার যুগান্তকারী সংস্কার করেন। তাই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মিস্টার হান্টারের সাথে খলিফা আবদুল মালিকের পুরোপুরি সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে খলিফা আবদুল মালিকের সংস্কারসমূহ উমাইয়া খিলাফতকে আরবি ও ইসলামি জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করে। নিচে তাঁর প্রধান সংস্কারগুলো পর্যালোচনা করা হলো:
১. আরবি ভাষার রাষ্ট্রীয়করণ: খলিফা আবদুল মালিক সরকারি দপ্তরসমূহে গ্রিক ও ফারসি ভাষার পরিবর্তে আরবি ভাষাকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করেন, যা প্রশাসনিক কাজে একতা ও আরবদের প্রাধান্য এনে দেয়।
২. নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থার প্রবর্তন: এর পূর্বে রোমান ও সাসানীয় মুদ্রা ব্যবহৃত হতো। আবদুল মালিক ৬৯৫-৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে কুরআনের আয়াত সংবলিত সম্পূর্ণ নিজস্ব দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) চালু করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
৩. রাজস্ব সংস্কার: তিনি উশর ও জিজিয়া করের সঠিক প্রয়োগ এবং খারাজ ব্যবস্থার সংস্কার করে রাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেন। নওমুসলিমদের ওপর থেকে বাড়তি কর প্রত্যাহারের সমন্বয়ও করেন।
৪. ডাক বিভাগের উন্নয়ন: প্রশাসনিক গতিশীলতা ও দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের লক্ষ্যে তিনি ডাক ব্যবস্থার (দিওয়ান আল-বারিদ্) প্রভূত উন্নতি সাধন করেন।
সুতরাং, এসব মৌলিক ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের ফলেই খলিফা আবদুল মালিককে উমাইয়া শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও এক অসাধারণ প্রতিভাবান শাসক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও