কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
ম্যানগ্রোভ বন কী?
- খ)(2)
বনের পরিবেশগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' কী এবং এর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে 'X' ও কৃত্রিম বনের বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উপকূলীয় অঞ্চলের জোয়ার-ভাটার নোনা পানিতে জন্ম নেওয়া ও টিকে থাকা বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (যেমন—শ্বাসমূল ও ঠেসমূলযুক্ত) বনকে ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বনের গুরুত্ব অপরিসীম। বনভূমি বাতাস থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং বিপুল পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়া বনভূমি বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে, মাটি ক্ষয় রোধ করে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার তীব্রতা কমিয়ে পরিবেশকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' হলো 'প্রাকৃতিক বন'।
প্রকৃতিতে মানুষের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে গাছপালা জন্মে ও বেড়ে উঠে যে বনের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রাকৃতিক বন বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি: এ বনের উদ্ভিদ মানুষের রোপণ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে বীজ ছড়িয়ে বা বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে গড়ে ওঠে।
২. জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্য: প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, লতাগুল্ম, বন্যপ্রাণী ও কীটপতঙ্গের এক সমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র বিদ্যমান থাকে।
৩. বহুবর্ষজীবী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্ভিদের বিন্যাস: এখানে একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন স্তরের (বড় বৃক্ষ, মাঝারি গাছ, ছোট গুল্ম ইত্যাদি) গাছ দেখতে পাওয়া যায়।
৪. জলবায়ু ও মাটির সাথে অভিযোজন: এখানকার উদ্ভিদ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে দীর্ঘকাল টিকে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'X' হলো প্রাকৃতিক বন এবং অপরটি হলো কৃত্রিম বন। মানুষের চাহিদা ও পরিবেশের প্রয়োজনে এই দুই ধরনের বনের মধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈসাদৃশ্য রয়েছে:
১. সৃষ্টি বা উৎপত্তির ধরন: প্রাকৃতিক বন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বীজ ছড়িয়ে বা স্বাভাবিক নিয়মে গড়ে ওঠে। অপরদিকে কৃত্রিম বন মানুষের পরিকল্পিত শ্রম ও উদ্যোগে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
২. জীববৈচিত্র্য: প্রাকৃতিক বনে উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর বিপুল বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে কৃত্রিম বনে সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়, ফলে এখানে জীববৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশ কম থাকে।
৩. বনের গঠন ও উদ্ভিদের স্তরবিন্যাস: প্রাকৃতিক বনে বিভিন্ন বয়সের ছোট-বড় গাছের প্রাকৃতিক স্তরবিন্যাস (Canopy layering) থাকে। কৃত্রিম বনে বেশিরভাগ গাছ একই সময়ে রোপণ করায় গাছগুলোর বয়স এবং উচ্চতা প্রায় সমান হয়।
৪. উদ্ভিদের জাত নির্বাচন: প্রাকৃতিক বনের প্রজাতি স্থানীয় পরিবেশের সাথে প্রাকৃতিকভাবে অভিযোজিত হয়। কৃত্রিম বনের ক্ষেত্রে সাধারণত দ্রুত বর্ধনশীল এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নির্দিষ্ট প্রজাতির উদ্ভিদ (যেমন—সেগুন, মেহগনি, রেইনট্রি ইত্যাদি) বাছাই করে রোপণ করা হয়।
৫. রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যা: প্রাকৃতিক বন প্রকৃতি নিজেই টিকিয়ে রাখে, এর জন্য নিয়মিত মানুষের পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। তবে কৃত্রিম বনের প্রাথমিক অবস্থায় চারা রক্ষা, আগাছা দমন, সেচ ও নিয়মিত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
সুতরাং, উৎপত্তি, গঠনবৈচিত্র্য ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে প্রাকৃতিক বন ('X') এবং কৃত্রিম বনের মাঝে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও