গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড কাকে বলে?
- খ)(2)
গলগণ্ড রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'R' চিহ্নিত ভিটামিনের কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'Q' চিহ্নিত ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ফ্যাটি অ্যাসিড মানবদেহে সংশ্লেষিত হয় না কিন্তু শারীরিক বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য এবং খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়, সেগুলোকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড বলে (যেমন- লিনোলেইক অ্যাসিড ও লিনোলেনিক অ্যাসিড)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যে বা পানিতে আয়োডিনের অভাব ঘটলে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়। আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থির থাইরক্সিন হরমোন তৈরির জন্য একটি আবশ্যকীয় উপাদান। শরীরে দীর্ঘ সময় আয়োডিনের ঘাটতি থাকলে থাইরক্সিন হরমোন উৎপাদনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখার চেষ্টায় থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলো আকারে বৃদ্ধি পায়, ফলে গলার নিচের অংশ ফুলে ওঠে এবং গলগণ্ড রোগের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি 'R' চিহ্নিত ভিটামিনটি হলো ভিটামিন 'সি' (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)।
ভিটামিন 'সি'-এর প্রধান কাজসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. কোলাজেন ও ত্বক গঠন: এটি দেহের সংযোগকারী কলা বা কোলাজেন সংশ্লেষণে অংশ নেয় এবং ত্বক, দাঁতের মাড়ি ও হাড়কে সুস্থ ও মজবুত রাখে।
২. ক্ষত নিরাময়: ভিটামিন সি রক্তনালি ও নতুন কলা তৈরিতে সহায়তা করে শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে কাজ করে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৪. আয়রন শোষণ: খাদ্য থেকে নন-হিম আয়রন শোষণে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়ক। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হিসেবে 'Q' চিহ্নিত ভিটামিনটি হলো ভিটামিন 'এ'।
ভিটামিন 'এ'-এর অভাবজনিত রোগসমূহ:
১. রাতকানা (Night Blindness): মৃদু আলোতে বা রাতে স্পষ্ট দেখতে না পাওয়া এই ভিটামিনের প্রাথমিক অভাবজনিত লক্ষণ।
২. জেরোপথ্যালমিয়া (Xerophthalmia): অভাব তীব্র হলে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায়, অপচ্ছ হয়ে যায় এবং আলসার সৃষ্টি হয়ে অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে।
৩. বিটট'স স্পট (Bitot's spots): চোখের সাদা অংশে বা কনজাংকটিভায় শুষ্ক ও রূপালি-ধূসর দাগ তৈরি হয়।
৪. কেরাটিনাইজেশন ও সংক্রমণ: ত্বক রুক্ষ ও আঁশের মতো হয়ে যায় (ফ্রিনোডার্মা) এবং শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।প্রতিকার ও প্রতিরোধ:
১. খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন: ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার যেমন— কলিজা, ডিমের কুসুম, ছোট মাছ (মলা, ঢেলা), দুধ ও মাখন ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে।
২. শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ: বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ রঙিন শাকসবজি (গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাল শাক) এবং পাকা ফল (আম, পেঁপে) খেতে হবে।
৩. সম্পূরক ভিটামিন এ ক্যাপসুল গ্রহণ: অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল সেবন করতে হবে। শিশুদের নিয়মিত জাতীয় টিকাদান দিবসে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও