ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানিদের উপর চরম নির্যাতন চালাত। তারা সকল প্রকার ব্যাংক, বীমা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো পশ্চিম পাকিস্তানের গড়ে তুলেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের সস্তা কাঁচামাল দিয়ে তাদের অধিকাংশ বাণিজ্য কেন্দ্র ও কারখানা চালাতো। ফলে সহজেই সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানের পাচার হয়ে যে। এই কারণেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
- ক)(1)
কত সালে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়?
- খ)(2)
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলতে কি বুঝ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে পূর্ব পাকিস্তানের উপর কোন কোন ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত বৈষম্যের ফলে পূর্ব পাকিস্তান সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল ছিল - মন্তব্যটি মূল পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ (তৎকালীন 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ') গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হলো ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক বাঙালির বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করে যে, আসামিরা ভারতের আগরতলায় ভারতীয় প্রতিনিধিদের সাথে মিলে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন দমন এবং শেখ মুজিবকে স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পূর্ব পাকিস্তানের উপর মূলত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের সূচনালগ্ন থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার অর্থনীতিতে চরম বৈষম্য নীতি গ্রহণ করেছিল। দেশের বেশিরভাগ ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোর প্রধান কার্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্বের সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে।
এছাড়া উদ্দীপকে উল্লেখিত সস্তা কাঁচামালের বিষয়টি ছিল আরও স্পষ্ট। পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট ও অন্যান্য কাঁচামাল অত্যন্ত কম দামে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হতো। পরবর্তীতে সেই কারখানার উৎপাদিত পণ্য আবার চড়া দামে পূর্ব পাকিস্তানে বিক্রি করা হতো। এভাবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে সম্পদ পাচার ('অর্থনৈতিক শোষণ') ঘটেছিল, যা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উক্ত বৈষম্যের ফলে পূর্ব পাকিস্তান সর্বদাই পশ্চিম পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল ছিল'—মন্তব্যটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যথার্থ।
পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পিত বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবে প্রধান অংশ হওয়া সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও কাঠামোগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল:
১. শিল্প ও বাণিজ্যে নির্ভরশীলতা: বৃহৎ শিল্প-কারখানাগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে স্থাপিত হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় শিল্পপণ্য, যেমন—বস্ত্র, ওষুধ, সিমেন্ট ইত্যাদির জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করতে হতো।
২. অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমস্ত সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো স্বাধীন ঋণ ও বিনিয়োগ নীতিমালা ছিল না।
৩. বাজেট বরাদ্দ ও উন্নয়ন: কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হতো। পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীল কৃষিভিত্তিক কাঠামোতে আটকে রেখে এর আধুনিকায়ন ব্যাহত করা হয়েছিল।পরিশেষে বলা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন একটি ঔপনিবেশিক ধাঁচের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করেছিল, যার ফলে পূর্ব পাকিস্তান স্বাবলম্বী হতে না পেরে সর্বদাই তাদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে বাধ্য হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও