সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
শাপলা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে ভর্তি হয়েছে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পর সমাজজীবনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে তারই প্রেক্ষাপটে সেটির উদ্ভব হয়েছে। আর এই বিষয়টি সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করে।
- ক)(1)
‘Sociology’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে কত খ্রিষ্টাব্দে ?
- খ)(2)
সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ বলা হয় কেন ? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে শাপলার পঠিত বিষয়ের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ের জ্ঞান অপরিহার্য- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘Sociology’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে (ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী অগাস্ট কোঁতের মাধ্যমে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞান মূলত সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্ক, তাদের মিথস্ক্রিয়া এবং সামাজিক সংগঠনের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। মানুষের মধ্যকার বহুমুখী সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে, পরিবর্তিত হয় এবং সমাজের ওপর প্রভাব ফেলে—তা সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আলোচনা করে। তাই সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শাপলার পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান (Sociology)। নিম্নে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সমাজবিজ্ঞান সমাজের সামগ্রিক পাঠ: সমাজবিজ্ঞান সমাজের কোনো একটি খণ্ডাংশ নিয়ে আলোচনা করে না, বরং সমাজের সমস্ত প্রতিষ্ঠান, কাঠামো ও সামগ্রিক মানবসম্পর্ক নিয়ে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করে।
২. বিজ্ঞানভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ পাঠ: সমাজবিজ্ঞান সামাজিক ঘটনাবলিকে কোনো পূর্বধারণা বা পক্ষপাত ছাড়া বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে।
৩. মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান: সমাজবিজ্ঞান সমাজকে 'যেমনটি হওয়া উচিত' তা না দেখে সমাজ মূলত 'যেমন' ঠিক সেভাবেই বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপন করে।
৪. বিশ্লেষণধর্মী ও সাধারণীকরণ বিজ্ঞান: এটি কেবল বাস্তব অবস্থার বর্ণনা দেয় না, বরং সামাজিক আচরণ ও রূপান্তরের কার্যকারণ সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সাধারণ সূত্র প্রণয়ন করার চেষ্টা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান এবং “মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ের জ্ঞান অপরিহার্য”—বক্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানের অপরিহার্যতা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিফলিত হয়:
১. সমাজ ও সামাজিক সম্পর্ক অনুধাবন: মানুষের সমাজবদ্ধ জীবন, পরিবারের ভূমিকা, রীতিনীতি এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সঠিকভাবে বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োজন।
২. সামাজিক সমস্যা শনাক্তকরণ ও সমাধান: বেকারত্ব, দারিদ্র্য, যৌতুক প্রথা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণতা ইত্যাদি সামাজিক সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটন এবং প্রতিকারের জন্য সমাজবিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আবশ্যক।
৩. সামাজিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন: যেকোনো কার্যকর জাতীয় নীতি, পরিকল্পনা বা টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সমাজের মানুষের সংস্কৃতি, চাহিদা ও মনস্তত্ত্ব জানা জরুরি, যা সমাজবিজ্ঞান দিয়ে থাকে।
৪. সামাজিক পরিবর্তন ও অভিযোজন: আধুনিকায়নের সাথে সাথে সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের গতিধারা বোঝা এবং সমাজকাঠামোর সাথে ব্যক্তির খাপ খাইয়ে নিতে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
৫. সামাজিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি: সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নাগরিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে সমাজবিজ্ঞান বাস্তবসম্মত শিক্ষা দেয়।অতএব, ব্যক্তিজীবনের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সামগ্রিক সমাজ সংস্কার এবং জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিতকরণে মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও