ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
শান্তিনগর গ্রামের যুবকেরা একটি সামাজিক সংঘ প্রতিষ্ঠা করে। সংঘ পরিচালনার জন্য তারা একটি সংবিধানও রচনা করে। কিছুদিন পর সংগ পরিচালনায় এমন একটি সমস্যার উদ্ভব হয় যার সমাধানের পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের সংবিধানে কোনো নির্দেশনা নেই। নতুন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সভায় সমস্যাটি সমাধানে যথার্থ পরামর্শ দিতে সক্ষম এমন সদস্যদের আহ্বান করেন। অধিকাংশের পরামর্শ মতে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে কিছু সংখ্যক সদস্য এ ব্যাপারে কোনো প্রকার মতামত ব্যস্ত করেননি। এভাবে সমস্যাটির সমাধান সম্পন্ন হয়।
- ক)(1)
ইজমার রুকনগুলি কী কী?
- খ)(2)
"সাহাবাদের ইজমা অপরিবর্তনীয়" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘের সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিটি শরিয়তের কোন উৎসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে কিছুসংখ্যক সদস্য কোনো প্রকার মতামত না দেয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সঠিক হয়েছে কি না? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।'
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উসুলবিদগণের মতে ইজমার প্রধান রুকন হলো— কোনো নির্দিষ্ট যুগের মুজতাহিদগণের কোনো শরিয়তি বিধানের ওপর ঐক্যমত (ইত্তিফাক) পোষণ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাহাবিদের ইজমা শরিয়তের অকাট্য বা চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য, যা পরিবর্তন করা যায় না। সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ সাহচর্য পেয়েছিলেন এবং ওহি অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট ও আহকামের তাৎপর্য সর্বাধিক অবগত ছিলেন। তাই সাহাবিদের যুগে কোনো শরিয়তি বিষয়ের ওপর যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা পরবর্তী কোনো যুগের আলেম বা মুজতাহিদগণের মতপার্থক্য বা ইজমার দ্বারা রহিত বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ফলে সাহাবাদের ইজমা চিরকালের জন্য অপরিবর্তনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘের সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিটি ইসলামি শরিয়তের তৃতীয় উৎস 'ইজমা'র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইসলামি শরিয়তে কুরআন ও সুন্নাহতে কোনো বিষয়ের স্পষ্ট বা প্রত্যক্ষ সমাধান না পাওয়া গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর কোনো যুগের মুজতাহিদগণের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তকে ইজমা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শান্তিনগর গ্রামের যুবকদের সংঘের সংবিধানে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান না থাকায় সভাপতি সমস্যাটির সমাধান দিতে সক্ষম এমন যোগ্য সদস্যদের একত্রিত করেন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একইভাবে ইসলামি শরিয়তে কোনো নতুন সমস্যার সমাধান কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে না পাওয়া গেলে সমকালীন যোগ্য মুজতাহিদগণ একত্রিত হয়ে শরিয়াহর আলোকে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হন, যা ইজমা নামে পরিচিত। অতএব, সংঘের এই পদ্ধতিটি শরিয়তের উৎস ইজমার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কিছুসংখ্যক সদস্য কোনো প্রকার মতামত না দেওয়া সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত গ্রহণটি শরিয়তের ইজমার অন্যতম একটি রূপ হিসেবে সঠিক হয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক ও সঠিক মনে করি।
ইসলামি আইনশাস্ত্রে ইজমা প্রধানত দুই প্রকার: ১. ইজমায়ে সরিহ বা স্পষ্ট ইজমা এবং ২. ইজমায়ে সুকুতি বা মৌন ইজমা। যখন কোনো বিষয়ে কতিপয় মুজতাহিদ স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেন এবং সমকালীন অন্যান্য মুজতাহিদগণ তা জানার পর কোনো বিরোধিতা বা দ্বিমত পোষণ না করে নীরব থাকেন, তাকে 'ইজমায়ে সুকুতি' বা মৌন সম্মতিসূচক ইজমা বলা হয়। অধিকাংশ ফিকহবিদদের মতে, উপযুক্ত পরিবেশে কোনো বিরোধিতা না করে নীরব থাকা প্রকারান্তরে সম্মতিরই লক্ষণ।
উদ্দীপকে সভাপতি সমস্যা সমাধানে যোগ্য সদস্যদের আহ্বান করলে অধিকাংশ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং কিছু সদস্য কোনো মতামত দেননি অর্থাৎ কোনো বিরোধিতাও করেননি। শরিয়তের পরিভাষায় এটি ইজমায়ে সুকুতির অনুরূপ। যেহেতু নীরব সদস্যরা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি, সেহেতু সাধারণ নিয়মে তাঁদের সম্মতি আছে বলেই ধরে নেওয়া হয় এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে কিছু সদস্য মতামত ব্যক্ত না করলেও অধিকাংশের সম্মতিতে গৃহীত সিদ্ধান্তটি ইসলামিক শরিয়তের ইজমার নীতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ সঠিক ও বিধিসম্মত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও