ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রফেসর রশিদ এক আলোচনায় বলেন- 'রাসুল (স) এর যুগে যেকোনো সমস্যার সমাধান সহজ ছিল। পরবর্তী যুগে তা কিছুটা জটিল হয়ে দাঁড়ায়। দ্বিতীয় হিজরির প্রথমদিকে একজন প্রসিদ্ধ ইমাম ফিক্ সম্পাদনা পরিষদ গঠন করেন। যিনি ৮০ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। এ পরিষদ ৮৩ হাজার মাসআলার সমন্বয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ রচনা করেন।' তাঁর এ বক্তব্য শুনে ড. আলী বলেন, 'তাদের এ গবেষণাকর্ম মুসলিম উম্মাহর প্রাত্যহিক জীবনে ইসলামি শরিয়াহ অনুশীলনকে সহজ করেছে।'
- ক)(1)
মাযহাব কয়টি?
- খ)(2)
'শাফেয়ি মাযহাবে কুরআন ও হাদিসের প্রকাশ্য অর্থের প্রয়োগ লক্ষণীয়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন মনীষীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ড. আলীর উদ্ধৃতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রধান ও প্রসিদ্ধ মাযহাব চারটি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ফিকহি বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদিসের প্রকাশ্য বা বাহ্যিক অর্থকে (জাহিরি অর্থ) প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট দলিল থাকতে কোনো রূপক অর্থ বা গভীর যুক্তি-তর্কের ওপর ভিত্তি না করে নসের (কুরআন ও হাদিসের বাণী) প্রকাশ্য অর্থকেই প্রাধান্য দিতেন। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আয়াত বা হাদিসের স্পষ্ট অর্থ নেওয়া সম্ভব, ততক্ষণ তার ভিন্ন বা ব্যাখ্যামূলক অর্থ পরিহার করাই তাঁর মূলনীতি ছিল। এজন্য শাফেয়ি মাযহাবে কুরআন ও হাদিসের প্রকাশ্য অর্থের প্রয়োগ বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রখ্যাত ফিকহবিদ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামের প্রখ্যাত তাবেয়ি ও হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসলামি আইন প্রণয়ন ও সংকলনের জন্য চল্লিশজন বিজ্ঞ আলেম ও গবেষক নিয়ে একটি অনন্য 'ফিকহ সম্পাদনা পরিষদ' গঠন করেন।
উদ্দীপকে প্রফেসর রশিদ উল্লেখ করেছেন যে, দ্বিতীয় হিজরির প্রথমদিকে ৮০ হিজরিতে কুফায় জন্মগ্রহণকারী একজন প্রসিদ্ধ ইমাম ফিকহ সম্পাদনা পরিষদ গঠন করেন এবং এই পরিষদ ৮৩ হাজার মাসআলার সমন্বয়ে গ্রন্থ রচনা করে। ঐতিহাসিক এই তথ্যাবলি সরাসরি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কর্ম ও জীবনের সাথে সম্পর্কিত। তিনি তাঁর পরিষদ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর গবেষণা করে ফিকহের জটিল মাসআলাসমূহ সুসংবদ্ধ করেছিলেন। অতএব, উদ্দীপকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ড. আলীর উক্তিটি হলো— "তাদের এ গবেষণাকর্ম মুসলিম উম্মাহর প্রাত্যহিক জীবনে ইসলামি শরিয়াহ অনুশীলনকে সহজ করেছে"— উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর সম্পাদনা পরিষদের গবেষণাকর্মের পূর্বে ইসলামি বিধানাবলি সুবিন্যস্ত কোনো আইনগ্রন্থের আকারে ছিল না। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিস্তৃতির সাথে সাথে মুসলমানদের প্রাত্যহিক জীবনে নিত্যনতুন জটিল সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাঁর পরিষদের মাধ্যমে কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে মানবজীবনের প্রায় সকল দিক—ইবাদত, মুআমালাত (লেনদেন), পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের মতো ৮৩ হাজার জটিল মাসআলার সমাধান লিপিবদ্ধ করেন।
এর ফলে মুসলিম উম্মাহর জন্য শরিয়তের বিধান জানা এবং তা প্রাত্যহিক জীবনে অনুসরণ করা অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিচারক ও শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে শরিয়তের সঠিক প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। ড. আলীর মন্তব্যটি মূলত এই বিশাল আইনি ও ফিকহি অবদানের ঐতিহাসিক মূল্যায়নকেই তুলে ধরেছে।
পরিশেষে বলা যায়, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ফিকহ সংকলন মুসলিম উম্মাহর পথপ্রদর্শক হিসেবে ইসলামি শরিয়াহর ব্যবহারিক প্রয়োগকে সর্বজনীন ও সহজসাধ্য রূপ দিয়েছে, যা ড. আলীর বক্তব্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও