ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

তিন বন্ধু হাবিব, হাসান ও রফিক ইসলামি শরিয়ার উৎস বিষয়ে করা বলছিল। হাবিব বলে- রাসুল (স) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে আসেন তা ওহি। কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর। তা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজে এর তিলাওয়াত আবশ্যক। তখন হাসান বলে- কিছু ওহি রয়েছে যা নামাজে তিলাওয়াত আবশ্যক নয় এবং তা অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। তা মু'জিযাও নয়। তখন রফিক বলে- এটি ইসলামি শরিয়ার অন্যতম প্রধান উৎস।

  1. ক)

    'সিহাহ সিত্তাহ' কী?

    (1)
  2. খ)

    الْحَيَاءُ شُعْبَةُ مِنَ الْإِيْمَانِ - ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে হাবিবের বস্তুব্যে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    হাসানের উল্লেখিত বিষয়ের সাথে হাদিসে কুদসির সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সিহাহ সিত্তাহ' অর্থ হলো বিশুদ্ধ ছয়টি গ্রন্থ। হাদিস শাস্ত্রের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস সংকলনকে (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি, সুনানে নাসাঈ ও সুনানে ইবনে মাজাহ) একত্রে 'সিহাহ সিত্তাহ' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা"—হাদিসটির মাধ্যমে মানুষের আত্মিক ও নৈতিক পবিত্রতার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। লজ্জা মানুষের মধ্যকার পাপ ও অশ্লীল কাজের প্রতি অনীহা তৈরি করে এবং সৎ ও নীতিবান পথে চলতে পরিচালিত করে। লজ্জাশীলতা না থাকলে মানুষ অবাধে পাপাচার ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হতে দ্বিধাবোধ করে না। তাই রাসুল (সা.) লজ্জাকে ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হাবিবের বক্তব্যে 'ওহিয়ে মাতলু' বা আল-কুরআনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

    ইসলামি শরিয়তে ওহি প্রধানত দুই প্রকার: ওহিয়ে মাতলু (যা তিলাওয়াত করা হয়) এবং ওহিয়ে গাইরে মাতলু (যা তিলাওয়াত করা হয় না, যেমন হাদিস)। ওহিয়ে মাতলু হলো যার শব্দ, ভাষা ও মর্ম সরাসরি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। এর তিলাওয়াত সরাসরি ইবাদত এবং নামাজে তা পাঠ করা বাধ্যতামূলক। এটিই মূলত পবিত্র কুরআনুল কারিম।

    উদ্দীপকে হাবিবের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে যে, রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছ থেকে যা এনেছেন তা ওহি এবং এমন ওহি যার ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা তিলাওয়াত করা ইবাদত এবং নামাজে পড়া আবশ্যক। এই লক্ষণগুলো হুবহু 'ওহিয়ে মাতলু' তথা আল-কুরআনের সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে হাসানের বক্তব্যে 'ওহিয়ে গাইরে মাতলু' অর্থাৎ সুন্নাহ বা হাদিসের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে। এর সাথে হাদিসে কুদসির গভীর সাদৃশ্য ও কিছু স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

    সাদৃশ্য:
    ১. উৎসগত সাদৃশ্য: ওহিয়ে গাইরে মাতলু এবং হাদিসে কুদসি—উভয়ের মূল উৎস ও ভাব আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই প্রেরিত।
    ২. নামাজে তিলাওয়াত: সাধারণ হাদিস এবং হাদিসে কুদসি কোনোটিই নামাজে ওহিয়ে মাতলুর মতো তিলাওয়াত করা আবশ্যক নয়।
    ৩. স্পর্শের বিধান: উভয় প্রকার হাদিসই অপবিত্র অবস্থায় সাধারণ নিয়মে অধ্যয়ন বা স্পর্শ করা জায়েজ।
    ৪. কোনোটিই কুরআনের মতো অলৌকিক বা অপারগকারী (মু'জিযাস্বরূপ) নয়।

    বৈসাদৃশ্য:
    ১. বাচনিক স্বত্বাধিকার: সাধারণ হাদিসে রাসুল (সা.) নিজের ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কিন্তু হাদিসে কুদসিতে রাসুল (সা.) কথাটি সরাসরি আল্লাহর নামে বর্ণনা করেন (যেমন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন...")।
    ২. শব্দের উৎস: সাধারণ হাদিসে শব্দ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজস্ব হলেও হাদিসে কুদসির শব্দ ও ভাব সরাসরি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বলে গণ্য করা হয়, যদিও তা কুরআনের মর্যাদাসম্পন্ন নয়।
    ৩. বিষয়বস্তু: হাদিসে কুদসিতে প্রধানত আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমা, রহমত ও আধ্যাত্মিক দিক আলোচিত হয়, পক্ষান্তরে সাধারণ হাদিসে শরিয়তের যাবতীয় বিধিবিধান ও দৈনন্দিন জীবনের দিকনির্দেশনা থাকে।

    অতএব, হাসানের উল্লেখিত বিষয় (ওহিয়ে গাইরে মাতলু/হাদিস) এবং হাদিসে কুদসির মধ্যে উৎস ও মূল রচনায় নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, তবে বর্ণনারীতি ও উপস্থাপনায় সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন