গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা • শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

ঝুমার বুটিক শপে সব পোশাকই দেশি তাঁতবস্ত্র দ্বারা তৈরি। সে পোশাকের ডিজাইনে সিলেট ও চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পোশাকের ডিজাইন অনুসরণ করে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করে। এছাড়া জ্যামিতিক নকশা, বাংলাদেশের পরিবেশ, প্রকৃতি, বৃক্ষলতা সংবলিত নকশার শাড়ি তার দোকানে বেশ জনপ্রিয়।

  1. ক)

    রাখাইনরা কোন জনগোষ্ঠীর লোক?

    (1)
  2. খ)

    ‘বেনারসি শাড়ির ঐতিহ্য অতিপ্রাচীন’—বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    ঝুমার দোকানের শাড়ির জনপ্রিয়তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে ঝুমার পোশাকের ডিজাইন করার যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাখাইনরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বেনারসি শাড়ির ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। ভারতের বারাণসী বা বেনারস থেকে এই শাড়ির উৎপত্তি ঘটেছিল। মোঘল আমলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সোনা ও রূপার জরি এবং খাঁটি রেশমি সুতা দিয়ে নিখুঁত ও কারুকার্যময় নকশায় এই শাড়ি বোনা হতো। ঐতিহ্যবাহী বুননশৈলী, উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার এবং চোখধাঁধানো জমকালো রূপের কারণে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে বিয়ে এবং বিশেষ উৎসবের প্রধান পোশাক হিসেবে বেনারসি শাড়ির কদর অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঝুমার দোকানের শাড়ির জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো দেশীয় ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও লোকসংস্কৃতির সার্থক সমন্বয় এবং রুচিশীল নকশার প্রয়োগ।

    পোশাক ও বস্ত্রের নকশায় যখন নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রকৃতির রূপ ফুটে ওঠে, তখন তা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ঝুমার বুটিক শপের শাড়িগুলোতে জ্যামিতিক নকশার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বৃক্ষলতা ইত্যাদি সংবলিত মোটিফ ব্যবহৃত হয়েছে। এই দেশীয় মোটিফগুলো শাড়িতে এক ধরনের সতেজতা ও নিজস্বতার ছোঁয়া এনে দেয়। ক্রেতারা সাধারণ ও একঘেয়ে নকশার পরিবর্তে যখন নিজেদের পরিচিত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক উপাদানের নান্দনিক প্রতিফলন শাড়িতে দেখতে পান, তখন তা সহজেই তাদের আকৃষ্ট করে। ফলে দেশীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিক নকশার জন্য ঝুমার দোকানের শাড়িগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নকশা ও দেশীয় তাঁতবস্ত্র অনুসরণ করে ঝুমার পোশাকের ডিজাইন করার উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, নান্দনিক এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যথার্থ।

    পোশাক নকশাকরণে বৈচিত্র্য আনতে দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকশিল্পের উপাদান ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে ঝুমা দেশি তাঁতবস্ত্রের উপর সিলেট ও চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পোশাকের নকশা অনুসরণ করে নতুনত্ব এনেছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব তাঁতশিল্প, রঙ নির্বাচন এবং জ্যামিতিক নকশার একটি সমৃদ্ধ ও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেমন—মণিপুরি, চাকমা, মারমা ইত্যাদি সম্প্রদায়ের বুননরীতি ও নকশা অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন।

    ঝুমা এই ঐতিহ্যবাহী নকশাকে আধুনিক রুচির সাথে সমন্বয় ঘটিয়ে পোশাকে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এর ফলে শুধু যে পোশাকে আধুনিক ফ্যাশনের সাথে তাল মিলিয়ে নতুনত্ব আসছে তা নয়, বরং আমাদের দেশের বিলুপ্তপ্রায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় তাঁতশিল্পের বিকাশ ও প্রসারে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সুতরাং, ঝুমার এ ধরনের সৃজনশীল ডিজাইন করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন