সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ঘটনা-১: সূর্য তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করে। ঘটনা-২: সম্পা তার স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর ছোটো ভাইকে বিয়ে করে।
- ক)(1)
লোকাচার কী?
- খ)(2)
"সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন"- বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
ঘটনা-১ কোন ধরনের বিবাহকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘটনা-২-এর বিবাহের সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজে প্রচলিত দৈনন্দিন আচার-আচরণ, রীতি-নীতি ও কাজের চিরাচরিত প্রথাগত অভ্যাসকে লোকাচার (Folkways) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সামাজিক স্তরবিন্যাস সর্বজনীন" বলতে বোঝায়— অতীত বা বর্তমানের এমন কোনো মানবসমাজ নেই যেখানে স্তরবিন্যাস অনুপস্থিত ছিল।
সকল কালেই প্রতিটি সমাজে ক্ষমতা, সম্পত্তি, মর্যাদা, বয়স বা লিঙ্গের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ বা বিভাজন লক্ষ্য করা গেছে। আদিম সাম্যবাদী সমাজে হয়তো আধুনিক শ্রেণির অস্তিত্ব ছিল না, কিন্তু বয়স বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভাজন ছিল। তাই সমাজবিজ্ঞানীদের মতে সামাজিক স্তরবিন্যাস একটি সর্বজনীন ও শাশ্বত সামাজিক বাস্তবতা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ 'সমান্তরাল জ্ঞাতি বিবাহ' বা প্যারালাল কাজিন ম্যারেজ (Parallel Cousin Marriage)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানে জ্ঞাতি সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবাহের ক্ষেত্রে বাবার ভাইয়ের (চাচা/জ্যাঠা) সন্তান কিংবা মায়ের বোনের (খালা) সন্তানকে বলা হয় সমান্তরাল জ্ঞাতি (Parallel cousin)। যখন কোনো ব্যক্তি তার চাচার কন্যা বা খালার কন্যাকে বিয়ে করে, তখন তাকে সমান্তরাল জ্ঞাতি বিবাহ বলা হয়।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ এ দেখা যায় সূর্য তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করেছে। পিতার ভাইয়ের সন্তান হওয়ার কারণে সূর্য এবং তার চাচাতো বোন সমান্তরাল জ্ঞাতি সম্পর্কের অন্তর্গত। কাজেই তাদের মধ্যকার এই বৈবাহিক সম্পর্কটি সমান্তরাল জ্ঞাতি বিবাহ কাঠামোর সুস্পষ্ট প্রতিফলন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘটনা-২ এ বর্ণিত বিবাহটি হলো দেবর বিবাহ (Levirate Marriage), যার সামাজিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
স্বামীর মৃত্যুর পর কোনো বিধবা নারী যদি তার মৃত স্বামীর কোনো ভাইকে (বিশেষ করে অবিবাহিত ছোটো ভাই বা দেবর) বিয়ে করে, তবে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে দেবর বিবাহ বা লেভিরেট বলে। সমাজে পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই প্রথাটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
দেবর বিবাহের সামাজিক গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. পারিবারিক স্থায়িত্ব ও সংহতি: এই বিবাহের ফলে বিধবা নারীটি অপরিচিত অন্য কোনো পরিবারে যাওয়ার পরিবর্তে পূর্বের শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করতে পারে, যা পরিবারের ঐক্য অটুট রাখে।
২. সন্তানদের নিরাপত্তা ও লালন-পালন: স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দেবর বিবাহ হলে সন্তানেরা তাদের নিজ বংশ ও রক্তের নিকটাত্মীয়ের স্নেহ-ছায়ায় বড় হওয়ার সুযোগ পায়।
৩. সম্পত্তির সংরক্ষণ: বিধবা অন্য কোথাও বিয়ে করলে পারিবারিক সম্পত্তি বিভাজিত বা হস্তান্তরিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দেবর বিবাহের মাধ্যমে পরিবারের সম্পত্তি পরিবারের ভেতরেই সংরক্ষিত থাকে।
৪. সামাজিক ও মানসিক নিরাপত্তা: একজন বিধবা নারীর জীবনে যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনিরাপত্তা তৈরি হয়, আপন দেবরের সাথে বিবাহের মাধ্যমে সে মর্যাদা ও মানসিক ভরসা ফিরে পায়।
অতএব, ঘটনা-২ এ সম্পা ও তার দেবরের বিবাহটি ঐতিহ্যবাহী সমাজে বিধবা ও তার সন্তানদের সুরক্ষা, সম্পত্তির অখণ্ডতা এবং পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও