সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় ছোট, বড় প্রায় সকলের হাতেই মোবাইল ফোন পৌঁছে গিয়েছে। এর বহুবিধ ইতিবাচক দিক থাকলেও উদীয়মান তরুণ সমাজ ব্যাপকভাবে এর অপব্যবহার করছে। ফলে সমাজে কিশোর গ্যাংসহ নানাবিধ অপরাধ ও কিশোর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এর কারণ উদ্ঘাটন ও নির্মূলে সমাজকর্মের একটি পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কেননা, সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সাধন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে বাধা দেওয়াই এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।
- ক)(1)
সমাজকর্ম গবেষণা সমাজকর্মের কোন ধরনের পদ্ধতি?
- খ)(2)
সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন সহায়ক পদ্ধতির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উক্ত পদ্ধতির গুরুত্ব বর্তমান সমাজে বেড়েই চলছে"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্ম গবেষণা সমাজকর্মের একটি সহায়ক পদ্ধতি (Secondary/Auxiliary method)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোকে (ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সমাজকর্ম) কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে যেসব পদ্ধতি পরোক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতি বলে। সমাজকর্ম প্রশাসন, সমাজকল্যাণ গবেষণা এবং সামাজিক কার্যক্রম—এই তিনটি হলো সমাজকর্মের প্রধান সহায়ক পদ্ধতি। এগুলো সরাসরি সমস্যা সমাধান না করে মৌলিক পদ্ধতিগুলোকে তাদের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে 'সামাজিক কার্যক্রম' (Social Action) পদ্ধতির ইঙ্গিত রয়েছে।
সামাজিক কার্যক্রম হলো এমন একটি সংগঠিত সামাজিক প্রচেষ্টা, যা সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা প্রতিরোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর ঘটিয়ে জনকল্যাণ নিশ্চিত করে। ওয়াল্টার এ. ফ্রিডল্যান্ডারের মতে, সামাজিক বিধানের পরিবর্তন, উন্নয়ন বা নতুন বিধান চালুর লক্ষ্যে পরিচালিত দলগত বা সমষ্টিগত প্রচেষ্টাই সামাজিক কার্যক্রম।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সমাজে কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাং-এর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নির্মূল ও কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। যেহেতু সামাজিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্যই হলো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনে বাধা দেওয়া ও কাঙ্ক্ষিত সমাজ সংস্কার সাধন করা, তাই উদ্দীপকে সমাজকর্মের 'সামাজিক কার্যক্রম' পদ্ধতিটির ইঙ্গিত প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত পদ্ধতির গুরুত্ব বর্তমান সমাজে বেড়েই চলছে"—উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে নির্দেশিত পদ্ধতিটি হলো সমাজকর্মের অন্যতম সহায়ক পদ্ধতি 'সামাজিক কার্যক্রম' (Social Action)।
বর্তমান আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন সামাজিক সমস্যা, অপরাধ প্রবণতা, কিশোর অপরাধ, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রথমত, সামাজিক কার্যক্রম সমাজে বিরাজমান ক্ষতিকর প্রথা, অপরাধ ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এবং জনমত গঠন করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত কিশোর গ্যাং বা প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সচেতনতামূলক প্রচার ও আন্দোলন গড়ে তুলতে এটি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
দ্বিতীয়ত, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে এবং জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়ন ও আইন সংস্কারে সামাজিক কার্যক্রম চাপ সৃষ্টিকারী দল হিসেবে কাজ করে। নতুন অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইন সংস্কার বা নতুন সমাজকল্যাণমূলক নীতি প্রণয়নে এটি সহায়তা করে।
তৃতীয়ত, এটি শোষিত, অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং কাঙ্ক্ষিত সামাজিক পরিবর্তন আনয়নে জনগণকে সংগঠিত করে।
সুতরাং, আধুনিক জটিল সামাজিক সমস্যাগুলোর সামগ্রিক সমাধান, প্রতিরোধ এবং সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গঠনে সামাজিক কার্যক্রম পদ্ধতির গুরুত্ব দিন দিন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও