গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • উত্তরা কলেজ, ঢাকা • উত্তরা কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সোহানা সিলেটে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার একটি প্রসিদ্ধ নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব তাঁতে নির্মিত জ্যামিতিক নকশার শাড়ি ও বিছানার চাদর কিনল। তার বান্ধবী সিমি টাঙ্গাইলের মেয়ে, সে তার নিজ অঞ্চলের বসাক সম্প্রদায়ের তৈরিকৃত শাড়ি ও সালোয়ার কামিজ কিনল। তারা দুইজনই তাদের পোশাকে দেশীয় বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য দেয় এবং মনে করে দেশীয় এই শিল্পগুলোর উৎপাদিত পণ্যে বৈচিত্র্য আসলিই তা মানুষের কাছে গ্রহণীয় হবে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
- ক)(1)
কাতান কী?
- খ)(2)
স্টাইল হলো ব্যক্তির নিজস্ব সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানা ও সিমি কোন কোন ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ক্রয় করেছে? তাদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রসমূহ যেমন নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ তেমনি বস্ত্রশিল্প উন্নয়নে ও ফ্যাশন সৃষ্টিতেও অনন্য- উক্তিটির যুক্তিসহকারে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাতান হলো উজ্জ্বল সিল্ক সুতা ও জরির সমন্বয়ে ঘন বুননে ঐতিহ্যবাহী নকশায় তৈরি এক প্রকার জমকালো রেশমি বস্ত্র।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্টাইল হলো ফ্যাশনের প্রচলিত ধারাকে নিজের মতো করে উপস্থাপন করার ব্যক্তিগত মাধ্যম, যা একজন ব্যক্তির রুচি ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটায়।
ফ্যাশন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে সামষ্টিকভাবে গৃহীত হয়। কিন্তু স্টাইল হলো ফ্যাশনের মধ্য থেকেই নিজের শারীরিক গঠন, ব্যক্তিত্ব, বয়স ও পছন্দের সাথে মানানসই উপাদানের নির্বাচন ও স্বকীয় রূপায়ণ। কোনো ব্যক্তি প্রচলিত পোশাককে নিজস্ব রুচিসম্মত নকশা ও বৈচিত্র্যে পরিধানের মাধ্যমে তার নিজস্ব সৃজনশীলতাকে ফুটিয়ে তোলে, যা অন্যের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও অনন্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সোহানা সিলেটের 'মণিপুরী বস্ত্র' এবং সিমি 'টাঙ্গাইল শাড়ি ও বস্ত্র' ক্রয় করেছে।
এদের বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. মণিপুরী বস্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- এটি সিলেটের মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব তাঁতে বোনা বস্ত্র।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গাঢ় রঙের পটভূমিতে জ্যামিতিক নকশার (যেমন—ত্রিভুজ, রেখা বা খাঁজকাটা প্যাটার্ন) চমৎকার সমন্বয়।
- সাধারণ সুতি ও রেশম সুতা দিয়ে অত্যন্ত টেকসই ও আরামদায়কভাবে এই বস্ত্র বোনা হয়।
২. টাঙ্গাইল বস্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- এটি টাঙ্গাইল অঞ্চলের তাঁতি ও ঐতিহ্যবাহী বসাক সম্প্রদায়ের দক্ষ হাতে বোনা বস্ত্র।
- এই শাড়ির পার ও জমিনে সুতি বা সিল্কের সুতায় সূক্ষ্ম পাড় ও বৈচিত্র্যময় নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়।
- টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি অত্যন্ত মোলায়েম, হালকা ও জলবায়ু উপযোগী আরামদায়ক পোশাক হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রসমূহ নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বস্ত্রশিল্পের উন্নয়ন ও আধুনিক ফ্যাশন সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে—উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র যেমন—মণিপুরী বস্ত্র, জামদানি, টাঙ্গাইলের তাঁত, খাদি ও রাজশাহী সিল্ক শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বকীয় গুণ ও শৈল্পিক উৎকর্ষের প্রতীক। উদ্দীপকে সোহানা ও সিমির মতো সচেতন নাগরিকরা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র পছন্দ করেন এবং এগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে বস্ত্রশিল্পের প্রসার চান।
নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা যায়:
১. ফ্যাশনে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: সমকালীন ফ্যাশন ডিজাইনাররা ঐতিহ্যবাহী কাপড় ও নকশাকে আধুনিক কাট ও প্যাটার্নে (যেমন—ফিউশন কুর্তি, আধুনিক শাড়ি, স্কার্ফ, জ্যাকেট) ব্যবহার করে নতুন ট্রেন্ড বা ফ্যাশন সৃষ্টি করছেন, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে।
২. বস্ত্রশিল্পের অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দেশীয় ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে প্রান্তিক তাঁতি ও তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
৩. রপ্তানি সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং: আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বাজারে পরিবেশবান্ধব ও হাতে বোনা প্রাকৃতিক তন্তুর বস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ঘটিয়ে এগুলো বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের বস্ত্রশিল্পকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।অতএব, দেশীয় ঐতিহ্যের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে পণ্যে নতুনত্ব ও আধুনিক রুচির প্রতিফলন ঘটালে তা নতুন ফ্যাশন সৃষ্টির পাশাপাশি সামগ্রিক বস্ত্রশিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও