সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বক্তৃতায় নবীনদের উদ্দেশ্যে বললেন, সুশিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তোমাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে। কেননা তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ ও দেশ বিনির্মাণে অগ্রযাত্রার সৈনিক।

  1. ক)

    সংঘ কী?

    (1)
  2. খ)

    "সভ্যতা মূলত বস্তুগত"- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রত্যয়ের সাথে। সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যয়টি মূলত সামাজিক উন্নয়নের মাপকাঠি- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একদল মানুষের সুসংগঠিত ঐক্যবদ্ধ রূপ বা সংগঠনকে সংঘ (Association) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সভ্যতা হলো মানুষের তৈরি সমস্ত বাহ্যিক ও দৃশ্যমান উপাদানের সমষ্টি, যা মানুষের জীবনযাপনকে সহজ ও আরামদায়ক করে। যেমন—ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, প্রযুক্তি, দালানকোঠা ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি।

    সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা, আর সভ্যতা হলো আমাদের যা আছে।" অর্থাৎ, আমাদের ব্যবহৃত ভৌত সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত অর্জনগুলোই হলো সভ্যতা। যেহেতু এগুলো দৃশ্যমান, পরিমাপযোগ্য ও মূলত স্পর্শযোগ্য বাস্তব উপাদান, তাই বলা হয় 'সভ্যতা মূলত বস্তুগত'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের ‘সামাজিক প্রগতি’ (Social Progress) প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    সামাজিক প্রগতি বলতে মানব সমাজের কাঙ্ক্ষিত, ইতিবাচক এবং গুণগত পরিবর্তনকে বোঝায়, যা মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। সমাজের ইতিবাচক দিকের পরিবর্তন, জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন এবং সচেতন নাগরিক তৈরির প্রক্রিয়া সামাজিক প্রগতির অংশ।

    উদ্দীপকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সুশিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব এবং তোমরাই দেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রার সৈনিক। এই কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন ও অগ্রযাত্রাই হলো সামাজিক প্রগতি। শিক্ষার প্রসার এবং তার মধ্য দিয়ে জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনের বার্তাটি সমাজবিজ্ঞানের প্রগতি ধারণারই প্রতিফলন। সুতরাং উদ্দীপকের বক্তব্যটি মূলত 'সামাজিক প্রগতি' প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যয়টি হলো 'সামাজিক প্রগতি'। সামাজিক প্রগতি মূলত সামাজিক উন্নয়নের সবচেয়ে প্রধান ও মৌলিক মাপকাঠি—মন্তব্যটি যথার্থ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. কাঙ্ক্ষিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন: কোনো সমাজ বা দেশের কাঠামোগত কিংবা অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটলেই তাকে প্রকৃত উন্নয়ন বলা যায় না, যদি না তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ নিয়ে আসে। প্রগতি হলো সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন।

    ২. মানবসম্পদের গুণগত রূপান্তর: উদ্দীপকে সুশিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রগতির একটি প্রধান চালিকাশক্তি, যা মানবসম্পদকে দক্ষ, সচেতন ও মানবিক করে তোলে। নাগরিকদের মননশীলতা ও জীবনবোধের উন্নয়ন ছাড়া সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    ৩. সামাজিক ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা: সামাজিক প্রগতির ফলে সমাজে বৈষম্য হ্রাস পায়, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে পৌঁছায়, তখনই প্রগতির মাপকাঠিতে সমাজকে উন্নত ধরা হয়।

    ৪. টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ: কেবল ভৌত কাঠামোর সম্প্রসারণ উন্নয়ন নয়; কুসংস্কার দূরীকরণ, অন্ধবিশ্বাস মুক্তি এবং মানবকল্যাণমুখী অগ্রগতিই হলো প্রগতি। এই প্রগতিই একটি সমাজকে টেকসই উন্নয়নের পথে ধাবিত করে।

    অতএব, বলা যায় যে কেবলমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, বরং নৈতিক, মানবিক এবং জীবনমানের সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারক হিসেবে সামাজিক প্রগতিই সামাজিক উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন