গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নাম: আতিক সাহেব; রোগের কারণ: রক্ত চলাচলে অপ্রতুলতা, করোনারীর ধমনীতে প্লাক
নাম: হাফিজ সাহেব; রোগের কারণ: বার বার পায়খানার বেগ, পানি স্বল্পতা, তলপেটে মোচড়ানো ব্যথা

  1. ক)

    আলসার কী?

    (1)
  2. খ)

    একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির রক্তচাপ কত? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    আতিক সাহেব যে রোগে আক্রান্ত তার লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আতিক সাহেব ও হাফিজ সাহেবের জন্য রোগ উপযোগী ভিন্ন ধরনের পথ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিপাকতন্ত্রের অন্তর্গত পাকস্থলী বা ডিওডেনামের অভ্যন্তরীণ শ্লেষ্মাস্তরে সৃষ্ট ক্ষতের সৃষ্টি হলে তাকে আলসার (পেপটিক আলসার) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আদর্শ বা স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো সাধারণত ১২০/৮০ মিমি পারদ (mmHg)। এখানে উপরের সংখ্যাটি (১২০ mmHg) হলো সিস্টোলিক রক্তচাপ, যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময় রক্তনালির দেওয়ালে সৃষ্ট চাপকে নির্দেশ করে। আর নিচের সংখ্যাটি (৮০ mmHg) হলো ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ, যা হৃৎপিণ্ডের দুটি সংকোচনের মধ্যবর্তী প্রসারণকালের চাপকে নির্দেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আতিক সাহেবের করোনারী ধমনীতে প্লাক জমা হয়ে রক্ত চলাচলে অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছে, যা হৃদ্‌রোগের (Coronary Heart Disease / হৃদযন্ত্রের সমস্যা) লক্ষণ নির্দেশ করে। এই রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. অ্যানজাইনা বা বুকে তীব্র ব্যথা ও চাপ অনুভূত হওয়া, যা সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে বাম হাত, কাঁধ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
    ২. সামান্য কায়িক পরিশ্রমে বা বিশ্রামরত অবস্থায়ও শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
    ৩. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরা এবং শরীর অতিরিক্ত দুর্বল বা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া।
    ৪. বুক ধড়ফড় করা এবং কখনো কখনো বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আতিক সাহেব আক্রান্ত হয়েছেন হৃদ্‌রোগে এবং হাফিজ সাহেবের লক্ষণসমূহ (ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, তলপেটে মোচড়ানো ব্যথা ও পানিস্বল্পতা) ডায়রিয়া বা আমাশয়জনিত পেটের রোগ নির্দেশ করে। উভয় রোগের প্রকৃতি ও কারণ ভিন্ন হওয়ায় তাদের পথ্য পরিকল্পনাও ভিন্ন হওয়া আবশ্যক।

    ১. আতিক সাহেবের জন্য পথ্য পরিকল্পনা: তিনি করোনারি ধমনীর ব্লকেজ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। তাই তাঁর খাবারে সম্পৃক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরল (যেমন—ঘি, মাখন, লাল মাংস, ভাজাপোড়া) কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফলমূল, ওটস), অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত তেল এবং কম লবণযুক্ত খাবার রাখতে হবে।

    ২. হাফিজ সাহেবের জন্য পথ্য পরিকল্পনা: তিনি ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণে ভুগছেন, ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে পানিস্বল্পতা তৈরি হচ্ছে। তাঁর প্রধান পথ্য হলো ওআরএস (খাবার স্যালাইন), ডাবের পানি, ভাতের মাড় ও তরল খাবার। এ সময় সহজে হজম হয় এমন জাউভাত, কাঁচাকলার ঝোল দেওয়া যেতে পারে এবং অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার, তেল-মসলা ও দুধজাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে।

    অতএব, উভয়ের শারীরিক জটিলতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় রোগ অনুযায়ী আলাদা ধরনের পথ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন