কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আলিম সাহেবের খামারে ৬টি গরু আছে। তিনি নিয়মিত খামার পরিদর্শন করেন। একদিন সকালবেলা খামারের একটি গরুর দেহের লোম খাড়া হয়ে কাঁপুনি দিয়ে উঠে। গরুটি কিছুক্ষণ পর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে নিস্তেজ হয়ে পরে মারা যায়।
- ক)(1)
বেবি কাফ কী?
- খ)(2)
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
আলিম সাহেবের গরুটি মারা যাওয়ার কারণ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে আলিম সাহেবের খামারের গরুর রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়াদি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জন্মের পর থেকে সাধারণত ৬ বা ৮ মাস বয়স পর্যন্ত বাছুরকে 'বেবি কাফ' বা দুগ্ধপোষ্য বাছুর বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মূলত মাংস ও উচ্চমানের চামড়ার জন্য পালন করা হয়। এ জাতের ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি এবং এরা সাধারণ খাদ্য ও আবহাওয়ায় সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তাছাড়া এরা বছরে দুবার একাধিক বাচ্চা প্রসব করে, যার ফলে অল্প পুঁজিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এবং এর মাংস খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলিম সাহেবের খামারের গরুটি 'তড়কা' বা 'অ্যানথ্রাক্স' রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
তড়কা রোগের কারণ: তড়কা রোগটি 'ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস' (Bacillus anthracis) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। জীবাণু দ্বারা দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে এটি পশুর দেহে প্রবেশ করে এবং দ্রুত মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করে হঠাৎ মৃত্যুর কারণ ঘটায়।
প্রতিকার ব্যবস্থা: তড়কা রোগটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণত লক্ষণ প্রকাশের পর চিকিৎসার সময় পাওয়া যায় না। তবুও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হলে অতি দ্রুত উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন- পেনিসিলিন, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ইত্যাদি) এবং অ্যান্টি-অ্যানথ্রাক্স সিরাম প্রয়োগ করে চিকিৎসা করতে হয়। তবে পশু মারা গেলে কোনোভাবেই ব্যবচ্ছেদ করা যাবে না, কারণ এর জীবাণু বাতাসের সংস্পর্শে এলে স্পোর গঠন করে দীর্ঘকাল পরিবেশে বেঁচে থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে আলিম সাহেবের খামারের গরুর তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স রোগসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত করণীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিয়মিত টিকাদান: খামারের সুস্থ সব পশুকে নিয়মিত ও সময়মতো তড়কা রোগের প্রতিষেধক টিকা (অ্যানথ্রাক্স ভ্যাকসিন) প্রদান করতে হবে। এটিই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।
২. মৃত পশুর নিরাপদ অপসারণ: তড়কা রোগে মৃত পশু বা সন্দেহজনক কোনো পশুর দেহ কোনো অবস্থাতেই কাটা বা ব্যবচ্ছেদ করা যাবে না। মৃতদেহ চুন সহযোগে মাটির কমপক্ষে ৬ ফুট গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা সম্পূর্ণ পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে মাটির ওপর জীবাণুর স্পোর ছড়াতে না পারে।
৩. জৈব নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা: খামার ও এর আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে আসা সকল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৪. সঙ্গরোধ (কোয়ারেন্টাইন): খামারে নতুন কোনো পশু আনলে সরাসরি দলভুক্ত না করে অন্তত ২-৩ সপ্তাহ আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো পশু অসুস্থ হলে তাকে অবিলম্বে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. দূষিত খাদ্য ও পানি পরিহার: খামারের গবাদিপশুকে কোনো অবস্থাতেই সংক্রমিত এলাকার ঘাস বা দূষিত পানি খাওয়ানো যাবে না।সুতরাং, যথাযথ টিকাদান এবং কঠোর জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অনুসরণের মাধ্যমেই আলিম সাহেব তাঁর খামারের অন্যান্য গরুকে এই মারাত্মক সংক্রামক রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও