সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

মানুষ সামাজিক জীব। জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে জীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধি করতে নানা প্রচেষ্টা চালায়। এজন্য জ্ঞান, পরিকল্পনা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে সে ফসল ফলায়। বাড়িঘর, যানবাহন,পোশাক-পরিচ্ছদসহ নানা প্রযুক্তি আবিষ্কারে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। এভাবে মানুষ নিত্য নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে শীর্ষে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে।

  1. ক)

    সমাজ কী?

    (1)
  2. খ)

    পিতৃসূত্রীয় পরিবার প্রত্যয়টি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের কোন মৌলিক প্রত্যয়ের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রত্যয়টির সাথে সভ্যতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজ হলো এমন এক সুসংগঠিত মানবগোষ্ঠী, যেখানে মানুষ নানাবিধ সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও নিয়মনীতির ভিত্তিতে একত্রে বসবাস করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পরিবারে সন্তান-সন্ততির বংশমর্যাদা, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক কর্তৃত্ব পিতার দিক থেকে নির্ধারিত হয়, তাকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।
    এ ধরনের পরিবারে বংশপরিচয় পিতার মাধ্যমে বর্তায় এবং পিতার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্র বা সন্তানেরা লাভ করে। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় অধিকাংশ মুসলিম ও হিন্দু পরিবার পিতৃসূত্রীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের মৌলিক প্রত্যয় 'সংস্কৃতি' (Culture)-এর কথা বলা হয়েছে।
    সমাজবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলরের মতে, সংস্কৃতি হলো জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্যান্য সামর্থ্য ও অভ্যাসের এক জটিল সামগ্রিক রূপ। সহজ ভাষায়, মানুষ তার বেঁচে থাকার প্রয়োজনে যা কিছু সৃষ্টি করে, তাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি প্রধানত দুই প্রকার— বস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: ঘরবাড়ি, প্রযুক্তি, পোশাক) এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: জ্ঞান, দক্ষতা, ধ্যান-ধারণা)।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, মানুষ মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জীবনকে উন্নত করতে জ্ঞান, পরিকল্পনা ও দক্ষতার প্রয়োগ ঘটায়। একই সাথে সে ফসল ফলায়, বাড়িঘর, যানবাহন ও পোশাকসহ নানাবিধ প্রযুক্তি আবিষ্কার করে। মানুষের এই জ্ঞান ও পরিকল্পনা হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি এবং আবিষ্কৃত প্রযুক্তি, ঘরবাড়ি ও যানবাহন হলো বস্তুগত সংস্কৃতি। সুতরাং, উদ্দীপকে মানবসৃষ্ট সামগ্রিক জীবনপ্রণালী অর্থাৎ 'সংস্কৃতি' প্রত্যয়টিকেই প্রতিফলিত করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রত্যয়টি হলো 'সংস্কৃতি', যার সাথে সভ্যতার নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
    সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভারের মতে, "সংস্কৃতি হলো আমরা যা, আর সভ্যতা হলো আমাদের যা কিছু আছে বা আমরা যা ব্যবহার করি" (Culture is what we are, civilization is what we use)। সংস্কৃতি ও সভ্যতা পরস্পরের পরিপূরক হলেও এদের মধ্যে গভীর যোগসূত্র ও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।
    সংস্কৃতি ও সভ্যতার সম্পর্কের দিকগুলো নিম্নরূপ:
    ১. পরিপূরকতা: সংস্কৃতির চূড়ান্ত ও বস্তুগত রূপই হলো সভ্যতা। মানব সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের একটি উন্নত ও জটিল স্তর হচ্ছে সভ্যতা। কৃষি, যানবাহন, কলকারখানা, প্রযুক্তির মতো বস্তুগত সংস্কৃতির চরম বিকাশই সভ্যতার জন্ম দেয়।
    ২. পারস্পরিক নির্ভরতা: সভ্যতার উপকরণ ছাড়া সংস্কৃতি যেমন পূর্ণাঙ্গতা পায় না, তেমনি সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ, নীতি ও জ্ঞান ছাড়া কোনো সভ্যতাই টিকতে পারে না।
    ৩. পার্থক্য ও সংযোগ: সংস্কৃতির পরিমাপ সরাসরি করা কঠিন হলেও সভ্যতার অগ্রগতি সহজে পরিমাপ করা যায় (যেমন প্রযুক্তির গতি ও দক্ষতা)। তবে সংস্কৃতির পরিবর্তন ও সভ্যতার অগ্রগতি একে অপরের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।
    পরিশেষে বলা যায়, সংস্কৃতি হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্ত্বা ও জীবনধারা, আর সভ্যতা হলো তার বাহ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্কৃতির সাথে সভ্যতার সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন