ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
স্পেনের উমাইয়া আমিরাতের শাসক আমির দ্বিতীয় আব্দুর রহমান। তার স্ত্রী সুলতানা তারুবার রূপ, যৌবন যেমন ছিল অতুলনীয় তেমনি ছিলেন বুদ্ধিমতী ও উচ্চাভিলাষী। তিনি রাজ্যের প্রশাসন ব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব বিস্তার করেন। রাজকার্যে তার প্রভাব এত বেশি ছিল যে, জনগণ তার মাধ্যমে আমিরের কাছে যে আবেদন করতেন আমির তা পূর্ণ করতেন।
- ক)(1)
'আইন-ই-আকবরীর' রচয়িতা কে?
- খ)(2)
বৈরাম খানের পরিচয় দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুলতানা তারুবার সাথে মুঘল আমলের কোন মহীয়সী নারীর মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উক্ত মহীয়সী নারীর কৃতিত্ব পর্যালোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ ও বিখ্যাত ঐতিহাসিক আবুল ফজল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈরাম খান ছিলেন মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও সম্রাট আকবরের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি এবং প্রধান অভিভাবক। হুমায়ুনের মৃত্যুর পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর সিংহাসনে আরোহণ করলে বৈরাম খান সম্রাটের অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রীর (ওয়াকিল) দায়িত্ব পালন করেন। ১৫৫৬ সালে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সুলতানা তারুবার সাথে মুঘল আমলের অন্যতম প্রভাবশালী সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের মিল পাওয়া যায়।
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূরজাহান ছিলেন অসাধারণ রূপসী, বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ ও উচ্চাভিলাষী। তিনি সম্রাটের গভীর ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনকাজে প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানের ওপর এতটাই নির্ভরশীল ছিলেন যে, নূরজাহানের সম্মতি ব্যতীত কোনো রাজকীয় ফরমান জারি করা হতো না, এমনকি নূরজাহানের নামে মুদ্রাও চালু করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে স্পেনের আমির দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের স্ত্রী সুলতানা তারুবার রূপ, বুদ্ধি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং রাজ্য পরিচালনায় আমিরের ওপর তার যে একক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, তা মুঘল ইতিহাসের নূরজাহানের শাসন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের অনুরূপ। অতএব, সুলতানা তারুবার সাথে নূরজাহানের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল ইতিহাসের সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের কৃতিত্ব ছিল বহুমাত্রিক এবং ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নূরজাহানের প্রধান কৃতিত্বগুলো নিচে পর্যালোচনা করা হলো:
১. প্রশাসনিক দক্ষতা: সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন ও আমোদ-প্রমোদে মগ্ন থাকতেন। এই সুযোগে নূরজাহান দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে শাসনকাজ পরিচালনা করেন। রাজদরবারে তিনি 'নূরজাহান জান্তা' বা দল গঠন করে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।
২. যুদ্ধক্ষেত্রে সাহস ও নেতৃত্ব: নূরজাহান ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। বিদ্রোহী সেনাপতি মহাবত খাঁ সম্রাট জাহাঙ্গীরকে বন্দি করলে নূরজাহান নিজ বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় সৈন্য পরিচালনা করে স্বামীকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন।
৩. সংস্কৃতি ও শিল্পকলা: নূরজাহান সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক এবং রুচিশীল সংস্কৃতির ধারক ছিলেন। তিনি নতুন নতুন পোশাকের নকশা ও সুগন্ধি (যেমন- আতর-ই-জাহাঙ্গீரி) উদ্ভাবন করেন। তাঁর পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলার সমাধিসৌধ নির্মাণে তাঁর উন্নত স্থাপত্যরুচির পরিচয় পাওয়া যায়।
৪. পরোপকার ও মানবকল্যাণ: তিনি অনাথ ও দুস্থ মুসলিম কন্যাদের বিবাহের আর্থিক সাহায্য প্রদান করতেন এবং বহু দরিদ্র মানুষকে আশ্রয় দিতেন।তবে তাঁর অতিরিক্ত ক্ষমতার লিপ্সা ও শাহজাহানের সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খলাও তৈরি করেছিল। সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, নূরজাহান ছিলেন তৎকালীন যুগের একজন অসামান্য প্রভাবশালী ও প্রতিভাবান নারী শাসক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও