সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আইন কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক আইনের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন সামাজিক আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্তসামাজিক আইনের সীমাবদ্ধতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন হলো মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত ও স্বীকৃত কতগুলো নিয়মকানুনের সমষ্টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক আইনের একটি অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমাজের অনগ্রসর, দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
    সমাজ জীবনে বিদ্যমান বৈষম্য, শোষণ ও কুসংস্কার দূর করে নারী, শিশু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সামাজিক আইন প্রণয়ন করা হয়। ফলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৬১ সালের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত উপাদানগুলো—যেমন দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা, বিবাহ নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা, স্ত্রীর ভরণপোষণ নিশ্চিতকরণ এবং সালিশি পরিষদের মাধ্যমে তালাক নিয়ন্ত্রণ ও নিরুৎসাহিত করার ব্যবস্থা—এই আইনের মৌলিক বিষয়বস্তু।

    এই আইনে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়, দেনমোহর চাওয়ামাত্র পরিশোধের নিয়ম করা হয় এবং তাৎক্ষণিক তালাক কার্যকর না করে ৯০ দিনের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ রেখে তালাক নিরুৎসাহিত করা হয়। একই সাথে নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আবশ্যক করা হয়। অতএব, উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের যুগান্তকারী ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. বহুবিবাহের সুযোগ বিদ্যমান: এ আইনে বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়নি, বরং সালিশি পরিষদের অনুমতিক্রমে একাধিক বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে কার্যকর তদারকির অভাবে পুরুষরা নানা অজুহাতে একাধিক বিয়ে করার সুযোগ পায়।

    ২. শাস্তির অপ্রতুলতা: আইন অমান্য করে সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে বা তালাক সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গ করলে যে শাস্তির (১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা) বিধান রয়েছে, তা অপরাধের গুরুত্বের তুলনায় অত্যন্ত লঘু।

    ৩. আইন প্রয়োগে শিথিলতা: গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সম্পন্ন হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার অভাবে আইনের কঠোর প্রয়োগ সম্ভব হয় না।

    ৪. নারীর ক্ষমতায়নে ঘাটতি: স্থানীয় সালিশি পরিষদ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা পুরুষতান্ত্রিক প্রভাবের মুখে নারীরা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হন।

    ৫. সচেতনতার অভাব: সাধারণ মানুষের মাঝে, বিশেষ করে নারীদের মাঝে, এই আইনের ধারাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা নিজেদের অধিকার পুরোপুরি আদায় করতে পারেন না।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৬১ সালের পারিবারিক আইনটি তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীদের সুরক্ষায় এক অনন্য সংযোজন হলেও এর শাস্তির স্বল্পতা ও আইনি ফাঁকফোকরের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল শতভাগ অর্জিত হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন