সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
সীমার বয়স পাঁচ বছর। সে কারো সাথে সহজে মিশতে চায় না, একাকি থাকতে পছন্দ করে। সে একই কাজ বার বার করে এবং নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না। সীমার এমন অস্বাভাবিক আচরণে তার বাবা-মা খুবই চিন্তিত।
- ক)(1)
বাল্যবিবাহ কী?
- খ)(2)
সঙ্গদোষ মাদকাসক্তির অন্যতম কারণ— সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সীমার আচরণে কোন সামাজিক সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
উক্ত সামাজিক সমস্যার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনগতভাবে নির্ধারিত বয়সের (বাংলাদেশে সাধারণত মেয়ের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলের ক্ষেত্রে ২১ বছর) পূর্বে সম্পাদিত বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সঙ্গদোষ মাদকাসক্তির একটি অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ কিশোর ও তরুণরা বন্ধুদের আচরণ দ্বারা খুব সহজে প্রভাবিত হয়। অসৎ বা মাদকাসক্ত বন্ধুদের সাথে মেলামেশার ফলে কৌতূহলবশত, বন্ধুদের চাপে পড়ে কিংবা দলভুক্ত থাকার মানসিকতা থেকে অনেকে প্রথম মাদক গ্রহণ করে এবং ধীরে ধীরে তাতে আসক্ত হয়ে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সীমার আচরণে 'অটিজম' (Autism / Autism Spectrum Disorder) নামক স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার প্রকাশ ঘটেছে।
অটিজম কোনো মানসিক রোগ নয়, এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশজনিত একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়ায় অদক্ষ হয়, একা থাকতে পছন্দ করে, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করে এবং চোখের যোগাযোগ এড়িয়ে চলে বা নিজের নাম শুনলেও সাড়া দেয় না।
উদ্দীপকের পাঁচ বছর বয়সী সীমা কারো সাথে মেশে না, একাকী থাকে, একই কাজ বারবার করে এবং নাম ধরে ডাকলেও সাড়া দেয় না। সীমার এই আচরণগুলো সরাসরি অটিজমের লক্ষণকে প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অটিজম একটি বিকাশজনিত সমস্যা, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সামগ্রিক সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। নিম্নে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পারিবারিক মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ: একটি পরিবারে অটিস্টিক শিশু থাকলে পিতা-মাতার মধ্যে মানসিক উদ্বেগ, হতাশা ও তীব্র দুশ্চিন্তা কাজ করে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা ও চিকিৎসার কারণে পরিবারটি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।
২. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও কুসংস্কার: সমাজে সচেতনতার অভাবে অনেক সময় অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে অবহেলা, কুসংস্কার বা একঘরে করার মানসিকতার শিকার হতে হয়।
৩. শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা: অটিজমের কারণে শিশুটি অন্যের সাথে ভাষা আদান-প্রদান, স্বাভাবিক বন্ধুত্ব ও প্রাত্যহিক কাজকর্মে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা তার ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে।
৪. জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক বোঝা: যথাযথ যত্ন, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন না পেলে এ ধরনের শিশুরা উৎপাদনশীল কাজে অবদান রাখতে পারে না, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বোঝা স্বরূপ হিসেবে দেখা দেয়।তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিশেষ যত্ন, ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ এবং সমাজকর্মীদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদেরও সমাজের মূলধারায় একীভূত করে উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও