সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

পূর্ববর্তী ৪২টি আইন ব্যর্থ হওয়ায় ইংল্যান্ডে দরিদ্র ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় একটি দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদেরকে তিনটি ভাগ করে সাহায্য প্রদান করা হতো। এ আইনের মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায়দের দায়িত্ব সরকারি অনুশাসনের মাধ্যমে স্বীকার করে নেওয়া হয়।

  1. ক)

    বিভারিজ রিপোর্ট কোন সালে প্রকাশিত হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সমাজকর্ম পেশা বিকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের আইনের যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিভারিজ রিপোর্ট ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড উইলিয়াম বিভারিজ তাঁর ১৯৪২ সালের বিখ্যাত রিপোর্টে মানবসমাজের উন্নতির পথে প্রধান পাঁচটি প্রতিবন্ধকতাকে 'পঞ্চদৈত্য' (Five Giants) বলে আখ্যায়িত করেছেন। এগুলো হলো: অভাব (Want), রোগব্যাধি (Disease), অজ্ঞতা (Ignorance), মলিনতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (Squalor) এবং অলসতা বা বেকারত্ব (Idleness)। এই পাঁচটি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ইংল্যান্ডে আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির রূপরেখা প্রদান করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইংল্যান্ডের ১৬০১ সালের বিখ্যাত 'এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন' (The Elizabethan Poor Law of 1601)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ইংল্যান্ডে চতুর্দশ শতাব্দী থেকে দরিদ্র ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন আইন পাস হতে থাকে। ১৫৯৭ সাল পর্যন্ত প্রণীত পূর্ববর্তী ৪২টি দরিদ্র আইন ব্যর্থ ও অকার্যকর হওয়ায় রাণী প্রথম এলিজাবেথ ১৬০১ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ দরিদ্র আইন প্রবর্তন করেন, যা ৪৩তম এলিজাবেথ আইন নামেও পরিচিত। এই আইনের মাধ্যমে দরিদ্রদেরকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল: ১. সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor), ২. অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor) এবং ৩. নির্ভরশীল শিশু (Dependent children)।

    উদ্দীপকেও পূর্ববর্তী ৪২টি আইনের ব্যর্থতার পর দরিদ্রদের তিনটি ভাগে ভাগ করে সাহায্য প্রদানের সরকারি দায়িত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা সরাসরি ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্ম পেশা বিকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লেখিত ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ছিল।

    ঐতিহাসিকভাবে ১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইনটিই দরিদ্রদের দায়িত্বভার সরকারি অনুশাসনের আওতায় নিয়ে আসে। এই আইনের মাধ্যমে প্রথম স্বীকার করা হয় যে, দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। এখানে দরিদ্রদের শ্রেণিবিন্যাস করে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার নীতি গৃহীত হয়, যা আধুনিক সমাজকর্মের বিজ্ঞানসম্মত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। সক্ষম দরিদ্রদের শ্রমশালায় কাজ প্রদান, অক্ষমদের আশ্রয়শালায় বা বহিরঙ্গ সাহায্য প্রদান এবং নির্ভরশীল শিশুদের জন্য শিক্ষানবিশির ব্যবস্থা ছিল সংগঠিত সমাজকল্যাণের অন্যতম প্রথম প্রয়াস।

    তাছাড়া, এই আইনের মাধ্যমেই প্রতিটি প্যারিশে তত্ত্বাবধায়ক (Overseer of the poor) নিয়োগ করা হয়, যা পরবর্তীতে সমাজকর্মী হিসেবে পেশাদার ভূমিকার প্রাথমিক রূপ ধারণ করে। যদিও এই আইনে কিছু কঠোরতা ছিল, তবুও এটি সনাতন দানশীলতার রূপ পরিবর্তন করে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার সূচনা করে। অতএব, পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তি রচনা ও বিকাশে এই আইনের যথার্থতা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন