ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্বাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভারতবর্ষের এক শাসকের সাথে পার্শ্ববর্তী মুসলিম শাসকের যুদ্ধ হলে প্রথমে মুসলিম শাসক পরাজিত হন। দ্বিতীয় বার যুদ্ধ হলে মুসলিম বাহিনীর নিকট ভারতের সম্মিলিত বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। ফলে উক্ত মুসলিম শাসক ভারতবর্ষে একটি নতুন ও স্থায়ী মুসলিম রাজত্বের ভিত্তিস্থাপনের গৌরব অর্জন করেন।
- ক)(1)
'জওহর ব্রত' কী?
- খ)(2)
'শাহনামা' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে তোমার পঠিত কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় উক্ত শাসকের অবদান পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জওহর ব্রত' হলো মধ্যযুগে ভারতের রাজপুত নারীদের সতীত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য অগ্নিকুণ্ডে আত্মাহুতি দেওয়ার একটি প্রথা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'শাহনামা' হলো মহাকবি ফেরদৌসী কর্তৃক রচিত একটি বিখ্যাত পারস্য মহাকাব্য। গজনির সুলতান মাহমুদের পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত এই গ্রন্থে প্রাচীন পারস্যের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক রাজাদের বীরত্বগাথা প্রায় ষাট হাজার শ্লোকে বর্ণিত হয়েছে। এটি ফারসি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে আমার পঠিত তরাইনের যুদ্ধের (বিশেষ করে তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধ) মিল রয়েছে।
দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ঘোরের শাসক মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরি ভারতবর্ষের দিকে অগ্রসর হলে ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। কিন্তু মুহাম্মদ ঘুরি দমে না গিয়ে পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে পুনরায় বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে তরাইনের প্রান্তরে উপস্থিত হন। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত ও নিহত করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, দ্বাদশ শতকের শেষে এক মুসলিম শাসক ভারতীয় শাসকের কাছে প্রথমে পরাজিত হন এবং দ্বিতীয় যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করে স্থায়ী মুসলিম শাসনের ভিত্তি গড়েন। এই ঘটনা তরাইনের প্রথম ও দ্বিতীয় যুদ্ধের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ ঘুরির অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং মৌলিক ছিল।
মুহাম্মদ ঘুরির আগে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু বিজয় করেছিলেন এবং সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করে প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তারা কেউই ভারতে স্থায়ী কোনো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেননি বা করতে সমর্থ হননি। মুহাম্মদ ঘুরির লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—তিনি ভারতে একটি স্থায়ী মুসলিম সাম্রাজ্যের বুনিয়াদ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন।
১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে দিল্লির চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করে তিনি উত্তর ভারতে মুসলিম শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর তিনি কনৌজের জয়চাঁদকে চান্দোয়ারের যুদ্ধে পরাজিত করেন। ভারতে তাঁর বিজিত অঞ্চলগুলোর প্রশাসনিক দায়িত্ব তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতি ও প্রতিনিধি কুতুবউদ্দিন আইবেকের হাতে ন্যস্ত করেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক এবং বখতিয়ার খলজি পরবর্তীতে সমগ্র উত্তর ভারত ও বাংলায় মুসলিম শাসন বিস্তার করেন। মুহাম্মদ ঘুরির মৃত্যুর পর তাঁরই যোগ্য প্রতিনিধি কুতুবউদ্দিন আইবেক ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন।
অতএব বলা যায়, ভারতে স্থায়ী মুসলিম রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান মুহাম্মদ ঘুরি ইতিহাসে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও