মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রবি এবং নীল দু'জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের উভয়ের বয়স ১৪ বছর। রবির ইচ্ছা ভবিষ্যতে একটা ভালো চাকরি করে তার পরিবারের দুঃখ কষ্ট দূর করবে। অপরদিকে নীলের কণ্ঠস্বরে হঠাৎ পরিবর্তন আসায় যে অন্যের সাথে কথা বলতে লজ্জা পায়। নীলের ছোট বোন ডলির বয়স ১২ বছর। ইদানীং ডলি প্রায়ই মন খারাপ করে একা বসে থাকে, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করে না, বিষণ্ণ থাকে ।
- ক)(1)
বয়ঃসন্ধিকাল কী?
- খ)(2)
বয়ঃসন্ধিকালে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়ের প্রত্যাশিত আচরণগুলো কী হওয়া উচিত?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রবির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কীসের প্রভাব বিদ্যমান ? ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
নীল ও ডলির আচরণ পরিবর্তনের কারণ এক হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে ভিন্ন'— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবজীবনের যে পর্যায়ে শৈশব থেকে যৌবনের উত্তরণ ঘটে অর্থাৎ সাধারণত ১২-১৩ বছর থেকে ১৮-১৯ বছর বয়স পর্যন্ত সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল (Adolescence) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীদের আবেগীয় অস্থিরতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ সময় বাবা-মায়ের উচিত তাদের প্রতি বন্ধুসুলভ, সহানুভূতিশীল এবং সহমর্মী আচরণ করা। সন্তানদের অযথা শাসন বা কটূক্তি না করে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো সহজভাবে বোঝানো, তাদের মতামতের গুরুত্ব দেওয়া এবং যেকোনো সমস্যায় পাশে থেকে মানসিক নিরাপত্তা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা বাবা-মায়ের প্রধান প্রত্যাশিত আচরণ হওয়া উচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রবির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর 'পারিবারিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশ'-এর প্রভাব বিদ্যমান।
মানসিক স্বাস্থ্য ব্যক্তির সার্বিক বিকাশ, আবেগীয় ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ চিন্তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পরিবারে যদি অভাব-অনটন, দুঃখ-কষ্ট বা আর্থিক সংকট থাকে, তবে তা কিশোর বয়সে ব্যক্তির মানসিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। এতে অনেক সময় সময়ের আগেই সন্তানকে দায়িত্ব সচেতন করে তোলে এবং পরিবারের কষ্ট দূর করার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
উদ্দীপকের ১৪ বছর বয়সী রবি ভবিষ্যতের একটি ভালো চাকরির মাধ্যমে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করার ইচ্ছা পোষণ করে। রবির এই চিন্তা প্রকাশ করে যে, তার পরিবারের বিদ্যমান আর্থিক সংকট বা প্রতিকূল পরিবেশ তার মনের মধ্যে একটি চাপ এবং একই সাথে দায়িত্ববোধের জন্ম দিয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে পারিবারিক দুঃখ-কষ্ট তথা সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রত্যক্ষ প্রভাব রবির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর পড়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীল ও ডলির আচরণ পরিবর্তনের কারণ এক হলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে ভিন্ন'—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। তাদের আচরণ পরিবর্তনের সাধারণ কারণ হলো 'বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন'।
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের শরীরেই বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে দ্রুত শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। তবে লিঙ্গভেদে এই শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নেয়।
উদ্দীপকে নীলের বয়স ১৪ বছর। এই বয়সে ছেলেদের কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন আসে এবং তা ভারী বা কর্কশ হয়ে যায়। নীলের কণ্ঠস্বরের এই পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও অপ্রস্তুত অবস্থায় সে অন্যের সাথে কথা বলতে লজ্জা পায় এবং হীনম্মন্যতায় ভোগে। এটি বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সৃষ্ট একটি সাময়িক সামাজিক-আবেগীয় প্রতিক্রিয়া।
অন্যদিকে, নীলের ছোট বোন ডলির বয়স ১২ বছর। এই বয়সে মেয়েদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালের সূত্রপাত হয়। ডলির মাঝে যে পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে তা মূলত তীব্র আবেগীয় ও মেজাজগত (Mood swing)। সে মন খারাপ করে একা বসে থাকে, খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত করে এবং বিষণ্ণতায় ভোগে। এটি বয়ঃসন্ধিকালীন হরমোনীয় পরিবর্তন ও মানসিক দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্ট আচরণগত বৈশিষ্ট্য।
সুতরাং দেখা যায়, উভয়ের পরিবর্তনের মূল কারণ অভিন্ন অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকালীন বিকাশ। কিন্তু নীলের ক্ষেত্রে যেখানে কণ্ঠস্বর ভারী হওয়ার কারণে লজ্জা পাওয়ার প্রকাশ ঘটেছে, সেখানে ডলির ক্ষেত্রে একাকীত্ব, বিষণ্ণতা ও অনীহার মতো মনস্তাত্ত্বিক আবেগীয় রূপ প্রকাশ পেয়েছে। তাই বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তাদের আচরণগত পরিবর্তন স্পষ্টতই ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও