ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুলতান সুলেমান বার বার একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অবশেষে দেশে ফিরে আসেন। অভিযানে তিনি যে ধন-সম্পদ অর্জন করেন তা শিক্ষাবিস্তার ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধশালী রাজ্যে পরিণত করেন।
- ক)(1)
ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
- খ)(2)
আরবদের সিন্দু বিজয়ের কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন'- ব্যাখ্যা করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কুতুবউদ্দিন আইবেক (বা মুইযউদ্দিন মুহম্মদ ঘুরি ভারতীয় ভূখণ্ডে মুসলিম বিজয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন, এবং ১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক স্বাধীন দিল্লি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল রাজা দাহিরের রাজ্যে আরব নাবিক ও তীর্থযাত্রীদের জাহাজ জলদস্যু কর্তৃক লুণ্ঠন এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ক্ষতিপূরণ ও বন্দিমুক্তির দাবি রাজা দাহির কর্তৃক প্রত্যাখ্যান। তবে এর পেছনে প্রধান রাজনৈতিক কারণ ছিল উমাইয়া খেলাফতের সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমানের কর্মকাণ্ডের সাথে গজনি বংশের বিখ্যাত শাসক সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মিল রয়েছে।
সুলতান মাহমুদ ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতে মোট ১৭ বার অভিযান পরিচালনা করেন। তবে তিনি ভারতে স্থায়ী কোনো সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করে অর্জিত বিপুল ধনসম্পদ নিয়ে গজনিতে ফিরে যেতেন। উদ্দীপকেও সুলতান সুলেমান বারবার একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করে ধনসম্পদ নিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন। সংগৃহীত ধনসম্পদ সুলতান মাহমুদ গজনির সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষাবিস্তার, বিশ্ববিদ্যালয়-লাইব্রেরি স্থাপন এবং আল-বিরুনি, ফেরদৌসীর মতো জ্ঞান-সাধকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যয় করে গজনিকে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের এক সমৃদ্ধশালী নগরীতে রূপান্তর করেন। অতএব, উদ্দীপকের চরিত্রটি সুলতান মাহমুদকে নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন'- উক্তিটি ঐতিহাসিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ যথার্থ।
সুলতান মাহমুদ ছিলেন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অপরাজেয় সেনাপতি ও সমরনায়ক। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় মধ্য এশিয়া, খোরাসান, সিস্তান থেকে শুরু করে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বহু যুদ্ধ পরিচালনা করে প্রতিটিতে বিজয়ী হন। উদ্দীপকে বর্ণিত অভিযানগুলোর মধ্য দিয়ে তাঁর অসামান্য সামরিক কৌশল প্রকাশিত হয়।তবে তাঁর কৃতিত্ব শুধু যুদ্ধের মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি মধ্যযুগীয় গজনি সাম্রাজ্যের প্রকৃত নির্মাতা ও সংগঠক ছিলেন। তিনি পিতার ক্ষুদ্র রাজ্য জাবুলিস্তান ও গজনিকে সম্প্রসারিত করে মধ্য এশিয়া ও ভারতীয় উপমহাদেশের অংশ নিয়ে এক বিশাল শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বাগদাদের খলিফা কর্তৃক 'ইয়ামিন-উদ-দৌলা' উপাধিতে ভূষিত এই শাসক তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, কঠোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, এবং গজনিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত করার মাধ্যমে নিজের রাজ্যকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাই তিনি কেবল সেনাপতি ছিলেন না, একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সফল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও