সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
অল্প বয়সে পারমিতার বিয়ে হয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রনজিৎ সাহার সাথে। সুখের সংসার তাদের। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় রনজিতের মৃত্যু হলে চরম বিপাকে পড়ে পারমিতা। মানবতাবাদী ও আধুনিক চিন্তার ধারক অরুণ মাস্টারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিধবাদের বিবাহের রীতি চালু হলে পারমিতাসহ অসংখ্য নারী নতুন জীবন লাভ করে।
- ক)(1)
সামাজিক পরিবর্তন কী?
- খ)(2)
সমাজ সংস্কার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে অরুণ মাস্টারের প্রচেষ্টার সাথে ভারতবর্ষের কোন সমাজ সংস্কারকের কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সমাজ সংস্কারে উক্ত মহৎ ব্যক্তির অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকাঠামো এবং সামাজিক সম্পর্কের রূপান্তর বা পরিবর্তনকেই সামাজিক পরিবর্তন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ সংস্কার বলতে সমাজের প্রচলিত ক্ষতিকর, অবক্ষয়ী, অন্ধবিশ্বাসী বা কুসংস্কারমূলক রীতিনীতি, কুপ্রথা ও অন্যায্য আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে সুস্থ, প্রগতিশীল ও কল্যাণমুখী সামাজিক ধারা প্রবর্তন করার সচেতন ও সুসংগঠিত উদ্যোগকে বোঝায়। এটি সমাজ কাঠামোর বৈপ্লবিক ধ্বংস নয়, বরং বিদ্যমান অসঙ্গতি ও অমানবিক বিষয়গুলোর ইতিবাচক সংশোধন বা উন্নয়নমূলক রূপান্তর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অরুণ মাস্টারের বিধবা বিবাহ প্রচলনের প্রচেষ্টার সাথে ভারতবর্ষের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাজের প্রত্যক্ষ মিল রয়েছে।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের কারণে বিপুলসংখ্যক নারী অল্প বয়সেই বিধবা হয়ে চরম অবহেলা, অমানবিক বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হতো। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শাস্ত্রীয় যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন এবং অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজ ও ব্রিটিশ সরকারকে প্রভাবিত করেন। তাঁরই আন্দোলনের ফলে ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসির আমলে 'হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন' (Hindu Widows' Remarriage Act, 1856) পাস হয়। উদ্দীপকে অরুণ মাস্টারও সড়ক দুর্ঘটনায় বিধবা হওয়া পারমিতাসহ সমাজের অসংখ্য নারীর করুণ দশা দূর করতে বিধবা বিবাহের রীতি চালু করেন, যা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঐতিহাসিক সংস্কার উদ্যোগের অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ সংস্কারে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান ছিল বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী।
বিদ্যাসাগর ছিলেন বাঙালি নবজাগরণের এক পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও মানবতাবাদী সংস্কারক। সমাজ সংস্কারে তাঁর মূল অবদানগুলো নিম্নরূপ:
১. বিধবা বিবাহ আন্দোলন: হিন্দু সমাজের নির্মম বিধবা প্রথা রদ করে অসহায় বিধবাদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার দিতে তিনি শাস্ত্রমন্থন করে প্রমাণ করেন বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত। তাঁর আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয় এবং তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ব্যয়ে বহু বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করান।
২. বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধ: তিনি সমাজে প্রচলিত অসম ও বাল্যবিবাহের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং কুলীন ব্রাহ্মণদের বহুপত্নী গ্রহণের মতো কুৎসিত প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।
৩. নারী শিক্ষার বিস্তার: নারীর ক্ষমতায়ন ও মুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটান। ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুনের সাথে যৌথভাবে বহু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে বাংলার বিভিন্ন জেলায় ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
৪. শিক্ষা ও বর্ণমালা সংস্কার: শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বাংলা বর্ণমালা সংস্কার এবং পাঠ্যপুস্তক রচনার মাধ্যমে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে যুক্তিবাদী জ্ঞানের আলো ছড়ান।সুতরাং বলা যায়, তিনি সামাজিক কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অমানবিক বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৎকালীন পিছিয়ে পড়া সমাজ ও নারী জাতিকে মুক্ত জীবনের সন্ধান দিয়েছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও