সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতনের দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে একজন সমাজকর্মী সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখার জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয় কত সালে?
- খ)(2)
মনো চিকিৎসা সমাজকর্ম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সমাজকর্মের কোন শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে চিকিৎসা সমাজকর্ম চালু হয় ১৯৫৮ সালে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনোরোগের চিকিৎসা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসিক হাসপাতাল বা ক্লিনিকে সমাজকর্মের জ্ঞান, পদ্ধতি ও দক্ষতার যে প্রয়োগ করা হয়, তাকে মনোচিকিৎসা সমাজকর্ম (Psychiatric Social Work) বলে। এটি রোগীর মানসিক অসুস্থতার সামাজিক ও পারিবারিক কারণ নির্ণয় ও পুনর্বাসনে চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজকর্মের 'শিল্প সমাজকর্ম' (Industrial Social Work) শাখার জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।
শিল্প-কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণসাধন, শিল্পক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ও শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক উন্নয়ন এবং শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সমাজকর্মের যে শাখা কাজ করে তাকে শিল্প সমাজকর্ম বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া বেতনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এ ধরনের বিরোধ নিরসন ও মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে একজন সমাজকর্মী শিল্প সমাজকর্মের জ্ঞান, নীতি ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সুতরাং এটি সুস্পষ্টভাবে শিল্প সমাজকর্মকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিল্প ক্ষেত্রে শ্রমিক অসন্তোষ দূর করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একজন শিল্প সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী।
উদ্দীপকের মতো পরিস্থিতিতে একজন সমাজকর্মী নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করেন:
১. মধ্যস্থতাকারী (Mediator): মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করে আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া বেতন ও মজুরি সংক্রান্ত সংকটের সম্মানজনক সমাধান বের করেন।
২. যোগাযোগ স্থাপনকারী (Communicator): শ্রমিকদের অসন্তোষ ও ন্যায্য দাবিসমূহ মালিকপক্ষের কাছে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করেন এবং মালিকপক্ষের সীমাবদ্ধতা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সহিংসতা রোধ করেন।
৩. পরামর্শদাতা (Counselor): ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মানসিক চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে গঠনমূলক আচরণে অনুপ্রাণিত করেন।
৪. নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তা: শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, যথাসময়ে বেতন প্রদান ও কাজের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও শ্রমনীতি বাস্তবায়নে পরামর্শ দেন।পরিশেষে বলা যায়, শিল্প সমাজকর্মী তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও মধ্যস্থতার দক্ষতার মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষ দূর করে শিল্পে উৎপাদনশীলতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও