ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিজাম ও ইখলাস দু'বন্ধু। নিজাম বলল, বন্ধু আমি গত সপ্তাহে এমন একটি দেশ ভ্রমণ করে এসেছি, যে দেশের সমাজ ব্যবস্থায় অধিকাংশ মানুষ এক আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক জীবন যাপন করে এবং তারা ন্যায়বিচার ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে, ইখলাস বলল, ঐ সমাজে ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয় না।
- ক)(1)
'গিবত' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'নিশ্চয়ই মুমিনগণ একে অপরের ভাই"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত নিজামের বক্তব্যে কীসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? তা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ইখলাসের বক্তব্যে যা ফুটে উঠেছে, তা পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গিবত' শব্দের অর্থ পরনিন্দা বা অসাক্ষাতে কারও দোষ আলোচনা করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"নিশ্চয়ই মুমিনগণ একে অপরের ভাই"- এটি পবিত্র কুরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতাংশ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রক্তের সম্পর্কের মতোই এক গভীর ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। এর দাবি হলো, সকল মুমিন একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াবে, পরস্পরের সাহায্য করবে এবং নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিজামের বক্তব্যে ‘ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা’ বা ‘ইসলামে সামাজিক সুবিচার ও ইনসাফ’-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একটি আদর্শ ইসলামী সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাওহিদের ওপর বিশ্বাস এবং মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (আদল) প্রতিষ্ঠা করা। এমন সমাজে জুলুম, অন্যায় বা বৈষম্যের স্থান নেই; শাসক ও প্রজা নির্বিশেষে প্রত্যেকেই আল্লাহর বিধানের অধীন এবং সমানাধিকার ভোগ করে।
নিজাম যে সমাজের বর্ণনা দিয়েছে, সেখানে অধিকাংশ মানুষ আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক চলে এবং ইনসাফ কায়েম রেখেছে, যা পাঠ্যবইয়ের ইসলামী সমাজব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইখলাসের বক্তব্যে যা ফুটে উঠেছে, তা পাঠ্যবইয়ের ‘ইসলামে আত্মীয়-স্বজনের অধিকার’ বা ‘মিরাস (উত্তরাধিকার) ব্যবস্থা ও আত্মীয়তার হক আদায়’-এর বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইসলাম মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নিকটাত্মীয়দের অধিকার নিশ্চিত করতে বিস্তারিত বিধান প্রণয়ন করেছে। পবিত্র কুরআনে আত্মীয়-স্বজনের হক আদায়ে কঠোর নির্দেশ রয়েছে এবং মিরাস বণ্টনে ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
ইখলাসের বর্ণনায় দেখা যায়, সেই সমাজে ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও আত্মীয়-স্বজন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয় না। ইসলামে উত্তরাধিকার আইন এবং সিলাহুর রাহিম রক্ষা করার মাধ্যমে আত্মীয়দের সকল আর্থিক ও সামাজিক প্রাপ্য যথাযথভাবে প্রদান নিশ্চিত করা হয়। এটি সামাজিক শোষণ ও বঞ্চনা রোধ করে সমাজে অর্থনৈতিক সাম্য ও পারিবারিক স্থিতিশীলতা তৈরি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও