ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

তিনি ৮০ হিজরি সনে কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামি আইনশাস্ত্রে তিনি পুরোধা ছিলেন। তার ফিকাহর বৈশিষ্ট্য ছিল সহজসরল। খলিফা মনসুর তাকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করেন এবং কারাগারে খাবারের বিষক্রিয়ায় সিজদারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

  1. ক)

    ফিকাহ সংকলনের যুগ বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    "প্রতিটি বস্তুরই খুঁটি রয়েছে, আর দীন ইসলামের খুঁটি হলো ফিকাহ"- ব্যাখ্যা করো

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন মনীষীর কথা ইঙ্গিতপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মনীষীর ফিকাহশাস্ত্রে অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত, যখন ইসলামি আইন বা ফিকাহশাস্ত্র সুসংহত, শ্রেণিবদ্ধ ও গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা হয়, সেই সময়কে ফিকাহ সংকলনের যুগ বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটির মাধ্যমে ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ফিকাহশাস্ত্রের মৌলিক গুরুত্ব নির্দেশ করা হয়েছে। একটি ভবন বা তাঁবু যেমন খুঁটি ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তেমনি ইসলামি অনুশাসন ও বিধিবিধান ফিকাহর মূলনীতি ও বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ফিকাহর মাধ্যমে বান্দা তার প্রাত্যহিক জীবনের হালাল-হারাম, ইবাদত-বন্দেগি ও পারস্পরিক লেনদেনের সঠিক পদ্ধতি অবগত হয়, যা দ্বীনকে সঠিকভাবে টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রখ্যাত মুজতাহিদ ও হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ৮০ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামের ফিকাহশাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ইমাম। তাঁর ফিকাহর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বাস্তবসম্মত, সহজ ও প্রাঞ্জল সমাধান প্রদান। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের প্রধান কাজির পদ গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় খলিফা তাঁকে কারারুদ্ধ করেন। অবশেষে ১৫০ হিজরিতে কারাগারেই বিষপ্রয়োগে সিজদারত অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। উদ্দীপকের জীবনীসংক্রান্ত সকল তথ্যাবলি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জীবনের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইসলামি আইনশাস্ত্র বা ফিকাহর পদ্ধতিগত বিন্যাস ও সংকলনে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অবদান অবিস্মরণীয়।

    ১. ফিকাহ বোর্ডের প্রতিষ্ঠা: তিনিই সর্বপ্রথম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আইন প্রণয়ন কমিটি বা 'ফিকাহ একাডেমি' গঠন করেন। সেখানে যেকোনো জটিল মাসআলা নিয়ে যুক্তিতর্ক হতো এবং সর্বসম্মতিক্রমে লিপিবদ্ধ করা হতো।
    ২. আধুনিক আইনের ভিত্তি: মানবজীবনের নানামুখী সমস্যা ও সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনি অনুমিত ফিকাহ (ফিকহুল ইফতিরাযি) প্রবর্তন করেন, যা আইনশাস্ত্রের পরিধিকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
    ৩. উসূলে ফিকাহর প্রয়োগ: তিনি কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি ইজমা, কিয়াস ও ইসতিহসানের যৌক্তিক সমন্বয় ঘটিয়ে সহজতর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত দিতেন।

    পরিশেষে, তাঁর গভীর প্রজ্ঞা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণেই হানাফি মাযহাব বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিমের অনুসারিত মাযহাবে পরিণত হয়েছে, যা ফিকাহশাস্ত্রে তাঁর অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন