ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
এমন একটি গ্রন্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যা একাধারে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস এবং সঠিক পথের দিশারী। কিয়ামত পর্যন্ত এটা অবিকৃত থাকবে। এ গ্রন্থ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন নিশ্চয় আমিই আল-যিকরা অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক
- ক)(1)
মুত্তাকী কারা?
- খ)(2)
"সালাত মুমিনের জন্য মিরাজস্বরূপ" ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রন্থের পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রন্থটি কীভাবে অবিকৃত থাকবে বলে তুমি মনে করো? ইসলামের আলোকে জবাব দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যাঁরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে সকল প্রকার অন্যায়, পাপ ও ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করেন, তাঁদের মুত্তাকী বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিরাজের রজনীতে মহানবী (সা.) সশরীরে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও দিদার লাভ করেছিলেন। সালাতের মাধ্যমে একজন মুমিন বান্দা দুনিয়াবি সমস্ত চিন্তা ত্যাগ করে একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেয় এবং তাঁর পরম সান্নিধ্য ও আধ্যাত্মিক নৈকট্য অর্জন করে। এজন্য হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, "আস-সালাতু মিরাজুল মুমিনীন" অর্থাৎ সালাত হলো মুমিনের জন্য মিরাজস্বরূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রন্থটি হলো পবিত্র কুরআন মাজিদ।
কুরআন মাজিদ মহান আল্লাহ তাআলার বাণী। এটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব, যা বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী হিসেবে সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে। এটি সকল প্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস এবং মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। সূরা আল-বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে, "এ সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক।" উদ্দীপকে উল্লেখিত "নিশ্চয় আমিই আল-যিকরা অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক" (সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯)—এই ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদের চিরন্তনতা ও অবিকৃত থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত গ্রন্থ পবিত্র কুরআন মাজিদ স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ঐশ্বরিক ব্যবস্থাপনায় কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে।
ইসলামের আলোকে এর সংরক্ষণ ও অবিকৃত থাকার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
১. ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি: মহান আল্লাহ তাআলা স্বয়ং কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, "নিশ্চয় আমিই উপদেশগ্রন্থ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি নিজেই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)। অন্যান্য আসমানি কিতাবের সংরক্ষণের দায়িত্ব মানুষের ওপর ন্যস্ত থাকায় তা বিকৃত হয়েছে, কিন্তু কুরআনের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর হাতে।
২. হিফজ বা মুখস্থকরণ ব্যবস্থা: কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম এটি মুখস্থ করতেন। আজ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে লক্ষ-কোটি হাফেজদের অন্তরে এটি হুবহু সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে এর একটি হরফ বা নুকতা পরিবর্তন করাও অসম্ভব।
৩. লিখিত সংরক্ষণ ও সংকলন: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় ওহী লেখকদের দ্বারা কুরআন লিখিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে খলিফা আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর যুগে তা নিখুঁতভাবে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়।
৪. দৈনন্দিন সালাতে তেলাওয়াত: প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান কুরআন তেলাওয়াত করেন, যা এর সার্বক্ষণিক চর্চা ও বিকৃতিহীনতা বজায় রাখে।
অতএব, মহান আল্লাহর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান এবং মুখস্থ ও লিখিত ব্যবস্থার মাধ্যমে কুরআন মাজিদ কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ ও অবিকৃত থাকবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও