ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
গত শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ভিয়েতনামের দুই অংশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে দক্ষিণ ভিয়েতনামের একজন সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে উত্তর ভিয়েতনামের একটি অংশে ঘৃণ্য ও বর্বর হর্তাকাণ্ড চালানো হয়। এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডটি তাদেরকে বিশ্ববাসীর নিকট ঘৃণার পাত্রে পরিণত করে।
- ক)(1)
কোন দেশ বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
- খ)(2)
'আত্মসমর্পণ দলিল' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত হত্যাকাণ্ডটি তৎকালীন দুই পাকিস্তানের কোন হত্যাকাণ্ডকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত হত্যাকাণ্ডটি মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি খণ্ডিত চিত্রমাত্র- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভুটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে ভুটান এবং একই দিন কয়েক ঘণ্টা পর ভারত স্বীকৃতি দেয়)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আত্মসমর্পণ দলিল' হলো ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ কমান্ডের কাছে নিঃশর্ত পরাজয় মেনে নেওয়ার লিখিত ঐতিহাসিক চুক্তিপত্র।
ঐদিন ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজী এই দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রায় ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত বর্বর হত্যাকাণ্ডটি তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পরিচালিত 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ একাত্তরের নৃশংস গণহত্যাকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভিয়েতনামের এক সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে উত্তর ভিয়েতনামের সাধারণ জনগণের ওপর বর্বর ও ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। একইভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ও জেনারেল টিক্কা খানের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানে 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা শুরু করা হয়।
২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নিরীহ, ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ট্যাঙ্ক ও আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ এবং পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। উদ্দীপকের সেই সামরিক নির্মমতা তৎকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার চিত্রকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিচালিত সামগ্রিক বর্বরতার একটি খণ্ডিত চিত্রমাত্র—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কেবল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলেই হত্যাযজ্ঞ চালায়নি, বরং নয় মাসব্যাপী সমগ্র বাংলাদেশে ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ও ব্যাপক গণহত্যা পরিচালনা করেছিল:
১. সমগ্র বাংলায় নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ: ২৫শে মার্চের কালরাত থেকে শুরু করে ১৬ই ডিসেম্বরের পূর্ব পর্যন্ত শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সব জায়গায় সাধারণ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করা হয়েছে। চুকনগর, জিঞ্জিরাসহ সারা দেশে অসংখ্য বধ্যভূমি এর সাক্ষ্য দেয়।
২. ব্যাপক নির্যাতন ও সম্ভ্রমহানি: মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষকে শহীদ করা হয় এবং দুই লক্ষাধিক নারী পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসরদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন।
৩. পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী নিধন: পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র হিসেবে দেশের সেরা শিক্ষক, চিকিৎসক, লেখক ও সাংবাদিকদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
৪. শরণার্থী সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞ: পাকিস্তানি বাহিনীর অবর্ণনীয় অত্যাচারের কারণে প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতে শরণার্থী হতে বাধ্য হয় এবং ঘরবাড়ি, গ্রাম-কে-গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করে দেওয়া হয়।
সুতরাং, কোনো একক হত্যাকাণ্ড দিয়ে একাত্তরের নির্মমতাকে সম্পূর্ণ তুলে ধরা অসম্ভব। উদ্দীপকে বর্ণিত হত্যাকাণ্ডটি ছিল পাকিস্তানি জান্তার দেশব্যাপী পরিচালিত সেই সুবিশাল বর্বরতা ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞের একটি আংশিক বা খণ্ডিত রূপমাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও