ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
সালমা একজন ধর্মপরায়ণ মহিলা। তিনি এমন একটি ইবাদত করেন যা তাকে প্রবৃত্তির তাড়না থেকে রক্ষা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। হাদিসে যার পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা দেবেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে জলিল একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। দেশ-বিদেশে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করলেও একটি দেশে গিয়ে সুনির্দিষ্ট ফরজ ইবাদত পালন করার সুযোগ তার ভাগ্যে এখনও হয়নি। জলিলকে ঐ ইবাদত পালনে পরামর্শ দেওয়া হলে সে বলল, 'আমি-কারণে-অকারণে অনেক দেশ ভ্রমণ করেছি। আবার ইবাদতের জন্য দেশ ভ্রমণের দরকার কী?'
- ক)(1)
الزكوة শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'সালাত জান্নাতের চাবিকাঠি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সালমা কোন ইবাদত পালন করেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জলিল সাহেবের উদ্ধৃতিটি কি তুমি সমর্থন কর? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
الزكوة (যাকাত) শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া, পবিত্র হওয়া বা পরিচ্ছন্ন হওয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সালাত হলো মুমিনের জন্য জান্নাতে প্রবেশের মূল মাধ্যম, তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতকে জান্নাতের চাবিকাঠি বলেছেন। যেমন চাবি ছাড়া কোনো বন্ধ ঘরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়, তেমনি সালাত আদায় না করে জান্নাতে প্রবেশ করা যায় না। সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর নৈকট্য দান করে। আখিরাতে সর্বপ্রথম সালাতেরই হিসাব গ্রহণ করা হবে। যার সালাতের হিসাব সহজ হবে, তার জান্নাতের পথ সুগম হবে। এজন্য সালাতকে জান্নাতের চাবিকাঠি বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সালমা 'সাওম' বা 'রোজা' ইবাদতটি পালন করেন।
সাওম হলো ইসলামি শরিয়তের অন্যতম মৌলিক রুকন, যা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায় এবং জৈবিক ও নফসের প্রবৃত্তি দমন করতে সাহায্য করে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, "রোজা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব" (সহিহ বুখারি)।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, সালমা এমন একটি ইবাদত করেন যা তাঁকে প্রবৃত্তির তাড়না থেকে রক্ষা করে এবং যার পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজে দেবেন বলে হাদিসে ঘোষিত হয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেবলমাত্র সাওম বা রোজার সাথেই সংগতিপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজাকে ঢালস্বরূপ বলেছেন, যা মানুষকে পাপ ও নফসের দাসত্ব থেকে রক্ষা করে। অতএব, সালমার পালিত ইবাদতটি হলো সাওম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত জলিল সাহেবের উদ্ধৃতিটি আমি মোটেও সমর্থন করি না।
ইসলামের অন্যতম মৌলিক ও পঞ্চম রুকন হলো 'হজ'। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জীবনে একবার পবিত্র মক্কা নগরীতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী হজ পালন করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: "মানুষের মধ্যে যারা সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা ফরজ" (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)।
উদ্দীপকের জলিল সাহেব একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সামর্থ্য ও অভ্যাস তাঁর রয়েছে। ফলে তাঁর ওপর হজ ফরজ হয়েছে। অথচ তিনি হজের মতো ফরজ ইবাদতকে সাধারণ দেশ ভ্রমণের সাথে তুলনা করে অজ্ঞতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। হজের উদ্দেশ্য কোনো সাধারণ বিনোদন বা দেশ ভ্রমণ নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ পালন না করা মারাত্মক গুনাহের কাজ এবং হাদিসে এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, জলিল সাহেবের মনোভাব ইসলামি বিধানের পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য। তাঁর উচিত অবিলম্বে হজ পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা গমন করে এই ফরজ দায়িত্বটি সম্পন্ন করা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও