‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ঢাকা সিটি কলেজ • ঢাকা সিটি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. রহমান একজন উচ্চ আদালতের বিচারপতি। তিনি এমন কিছু মামলার উপর রায় প্রদান করেছেন, যা প্রচলিত আইনে নেই। তিনি তার ন্যায়বোধ, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার আলোকে এই সকল মামলার রায় প্রদান করেছেন। তার প্রদত্ত রায় অন্যান্য বিচারপতিদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে আছে।

  1. ক)

    মূল্যবোধ কী?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ কেন আইন মান্য করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আইনের কোন উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লেখিত উৎস ব্যতীত আইনের অন্যান্য উৎসসমূহ আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূল্যবোধ হলো সমাজবদ্ধ মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার এমন কিছু সমষ্টিগত নীতি ও মানদণ্ড, যা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও কাঙ্ক্ষিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ মূলত সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে আইন মান্য করে। এছাড়া শাস্তির ভয়, সামাজিক বিশৃঙ্খলা পরিহার এবং আইনকে নাগরিক অধিকার ও সুবিধার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে 'বিচারকের রায়' বা 'বিচারিক সিদ্ধান্ত' (Judicial Decisions)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    প্রচলিত আইনে যখন কোনো নির্দিষ্ট মামলার স্পষ্ট বিধান থাকে না, তখন বিচারকগণ তাদের নিজস্ব প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন রায় প্রদান করেন। এই রায়টি পরবর্তীতে অনুরূপ মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত বা আইন হিসেবে বিবেচিত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিচারপতি মি. রহমান এমন কিছু মামলার রায় দিয়েছেন যার কোনো সুস্পষ্ট বিধান প্রচলিত আইনে ছিল না। তিনি তার ন্যায়বোধ, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার ভিত্তিতে এসব রায় দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে অন্য বিচারপতিদের কাছে নজির বা অনুসরণীয় হয়েছে। এটি আইনের উৎস হিসেবে বিচারকের রায়কেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বিচারকের রায়ের কথা বলা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হল্যান্ডের মতে বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের আরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে। নিচে প্রধান উৎসসমূহ আলোচনা করা হলো:

    ১. প্রথা (Customs): দীর্ঘদিন ধরে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি ও আচরণবিধি যখন রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত হয়, তখন তা আইনে পরিণত হয়। যেমন—যুক্তরাজ্যের সাধারণ আইন।
    ২. ধর্ম (Religion): প্রাচীন ও মধ্যযুগে ধর্মীয় অনুশাসনই ছিল আইনের মূল ভিত্তি। আধুনিক পারিবারিক ও উত্তরাধিকার আইনে ধর্মীয় আইনের প্রভাব ব্যাপক।
    ৩. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা (Scientific Discussions): খ্যাতনামা আইনজ্ঞ ও পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ অনেক সময় আইনের মর্যাদা লাভ করে। যেমন—কোডেক্স জাস্টিনিয়ান বা ব্ল্যাকস্টোনের ভাষ্য।
    ৪. ন্যায়বোধ (Equity): বিচারক যখন প্রচলিত আইন দিয়ে ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হন বা অস্পষ্টতা দেখেন, তখন তিনি স্বাভাবিক বিবেক ও ন্যায়বোধের প্রয়োগ করেন।
    ৫. আইনসভা (Legislature): আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধান ও প্রত্যক্ষ উৎস হলো আইনসভা। আইনসভা জনমতের ভিত্তিতে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরোনো আইন সংশোধন করে।

    সুতরাং, বিচারকের রায়ের পাশাপাশি উল্লিখিত উৎসগুলো আইনের বিকাশে ও রূপায়ণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন