ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল) • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট বোর্ড ২০২৫
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
'তমদ্দুন মজলিশ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- খ)(2)
'যুক্তফ্রন্ট' কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটি ইতিহাসের কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত ঘটনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল-মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি নির্বাচনী ঐক্যজোট।
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফতে রব্বানী পার্টির সমন্বয়ে এই জোট গঠিত হয়। মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক '২১ দফা' কর্মসূচির ভিত্তিতে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করে মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের, যা ইতিহাসের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'কে নির্দেশ করে।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র-সমাজ ও সাধারণ মানুষ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। এই বীর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখার প্রতীক হিসেবেই শহীদ মিনার নির্মিত হয়। অতএব, উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনকেই মূর্ত করে তুলেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালির আত্মত্যাগ মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
তৎকালীন পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাঙালিদের পদানত রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাষার প্রশ্নে বাঙালি জাতি প্রথমবারের মতো ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের স্বতন্ত্র ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালি বুঝতে পেরেছিল যে, পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল উন্মেষ ঘটে। এই চেতনার ধারাবাহিকতাতেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা কর্মসূচি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন সংঘটিত হয়। সবশেষে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না, বরং তা বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের পথপ্রদর্শক ছিল। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও